তিলজলার অগ্নিকাণ্ডের পর এবার খাস কলকাতায় চলল বুলডোজার
.jpeg.webp?w=800&resize=800,533&ssl=1)
তিলজলার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই নজিরবিহীন প্রশাসনিক সক্রিয়তা দেখল তিলোত্তমা। অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বুধবার সন্ধ্যায় তিলজলায় পৌঁছায় বুলডোজার। রাতারাতি অবৈধ কাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার এই ঘটনা শহরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। সরকারের এই কঠোর অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট করেছেন যে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করেই এই চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন।
নবান্নে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছিলেন, জনজীবন বিপন্ন করে এমন কোনো বেআইনি কারখানা বা নির্মাণ বরদাস্ত করা হবে না। সেই নির্দেশ কার্যকর করতেই চিহ্নিত এলাকাগুলোতে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ জানান, আইন সবার জন্য সমান এবং অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক, তাকে কোনোভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না। এমনকি খাস কলকাতায় এত দ্রুত বুলডোজার নামবে, তা সাধারণ মানুষের কল্পনার অতীত ছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
নিয়োগ ও উন্নয়ন নিয়ে বড় ঘোষণা
প্রশাসনিক এই কঠোরতার পাশাপাশি কর্মসংস্থান নিয়েও আশার কথা শুনিয়েছেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যের পঞ্চায়েত দফতরগুলোতে খুব দ্রুত সাড়ে ৬ হাজার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। পূর্বতন সরকারের জমানায় প্যানেল তৈরি থাকলেও নিয়োগ না হওয়ায় প্রচুর কাজ পড়ে রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। কেন্দ্রের দেওয়া অর্থ সঠিকভাবে কাজে লাগাতে এবং জনহিতকর কাজ গতিশীল করতে এই নিয়োগ দ্রুত কার্যকর করার বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে ক্যাবিনেটে জানানো হয়েছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
জনকল্যাণ ও থমকে থাকা প্রকল্পের গতি
খাদ্য প্রকল্পের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে রাজ্য সরকার। ‘মা ক্যান্টিন’ প্রকল্পে বর্তমানে প্রচলিত ডিম-ভাতের পাশাপাশি এবার মাছ-ভাতের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ৫ টাকা অপরিবর্তিত রেখে খাবারের পরিমাণ ও মান বাড়ানোর দিকে জোর দিচ্ছে সরকার। পাশাপাশি, শহরের থমকে থাকা উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে পূর্বতন সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন দিলীপ ঘোষ। বিশেষ করে আইনি জটিলতা কাটিয়ে অরেঞ্জ লাইন মেট্রোর বকেয়া কাজ পুরোদমে শুরু হচ্ছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। প্রশাসনের দাবি, নিয়ম মেনে দ্রুত কাজ শেষ করাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।