“আইনের চোখে সবাই সমান”, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে শমীকের মন্তব্য ঘিরে তুমুল জল্পনা

রাজ্যের রাজনৈতিক আঙিনায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) কার্যকর করা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার চাইলে যে কোনো দিন পশ্চিমবঙ্গও এই আইনের আওতায় আসতে পারে। তাঁর মতে, আইনের চোখে সকল নাগরিক সমান, তাই ধর্ম বা বর্ণের ভিত্তিতে বিচারব্যবস্থায় কোনো বৈষম্য থাকা উচিত নয়। বিধানসভা নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, বিজেপি ক্ষমতায় এলে তিন মাসের মধ্যে এই আইন চালুর কথা থাকলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে শমীকের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এক আইন ও সমান অধিকারের প্রশ্ন
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি মূলত এমন একটি আইনি কাঠামো, যা কার্যকর হলে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ ও বৌদ্ধসহ সকল ধর্মের মানুষ একই পারিবারিক ও উত্তরাধিকার আইনের অধীনে আসবে। বর্তমানে ভারতে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের জন্য বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ এবং সম্পত্তি উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে পৃথক পৃথক ব্যক্তিগত আইন বা ‘পার্সোনাল ল’ প্রচলিত রয়েছে। ইউসিসি চালু হলে এই ভিন্নতা ঘুচে যাবে এবং অপরাধের ক্ষেত্রেও সকলের জন্য সমপর্যায়ের শাস্তি নিশ্চিত হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ইতিপূর্বে একাধিকবার সারা দেশে এই বিধি বলবৎ করার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন।
বাস্তবায়নের পথে জটিলতা ও বর্তমান স্থিতি
ইতিমধ্যেই উত্তরাখণ্ড, গোয়া এবং গুজরাটের মতো রাজ্যগুলোতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে আদিবাসী জনজাতিদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও রীতিনীতি রক্ষায় এই আইনের আওতা থেকে তাঁদের বাইরে রাখা হয়েছে। আসাম সরকারও তাদের খসড়া বিলে পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রেখেছে। বিরোধীদের পক্ষ থেকে অবশ্য প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে, একটি বড় অংশকে বাইরে রেখে একে কতটা ‘অভিন্ন’ বলা চলে। বাংলায় এই বিধি কার্যকর হলে তা সামাজিক ও রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, আইনি অভিন্নতা ও ধর্মীয় স্বতন্ত্রতার এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত রাজ্য কোন পথে হাঁটে।