দিল্লিতে মোদির সঙ্গে রুশ ও ইরানি বিদেশমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, ব্রিকস সম্মেলনে তুঙ্গে উত্তেজনা

ইরান ও আমেরিকার চলমান সংঘাতের আবহে দিল্লিতে শুরু হয়েছে ব্রিকস গোষ্ঠীভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর দু’দিনের বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন। বৃহস্পতিবার এই সম্মেলনের ফাঁকে রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচির সঙ্গে আলাদা করে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম দেশ দুটির শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে মোদির এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
আমেরিকার বিরুদ্ধে সরব ইরান
সম্মেলনের প্রথম দিনেই নিজের ভাষণে আমেরিকার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচি। তিনি ওয়াশিংটনের নীতিকে ‘গুন্ডামি’ ও ‘জবরদস্তি’ হিসেবে অভিহিত করে দাবি করেন, মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার এটাই উপযুক্ত সময়। আরাঘাচির মতে, আমেরিকার এই ধরনের অন্যায় পদক্ষেপগুলো ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হওয়ার যোগ্য। রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ইরানের এই কড়া অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কূটনৈতিক গুরুত্ব ও প্রভাব
ভারতের জন্য এই বৈঠকটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবং অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে জ্বালানি ও বাণিজ্যিক স্বার্থ ভারতের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম ভিত্তি। প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, পশ্চিমী চাপ থাকা সত্ত্বেও ভারত তার পুরনো মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার বিষয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে ইরানের প্রতিনিধির আলোচনা বিশ্ব বাণিজ্য ও তেলের বাজারের স্থিতিশীলতার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ব্রিকস মঞ্চকে ব্যবহার করে ইরান ও রাশিয়ার এই সংহতি প্রদর্শন আগামী দিনে আমেরিকার ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।