সময়ের আগেই দেশে বর্ষার পদধ্বনি, ১৬ মে আন্দামান সাগরে ঢুকছে মৌসুমী বায়ু

তীব্র দাবদাহের মাঝে দেশবাসীর জন্য স্বস্তির বার্তা দিল ভারতীয় আবহাওয়া দফতর। নির্ধারিত সময়ের অন্তত চার দিন আগেই দেশে প্রবেশ করতে চলেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১৬ মে নাগাদ মৌসুমী বায়ু দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর, আন্দামান সাগর এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের একাংশে পৌঁছে যাবে। সাধারণত ২০ মে নাগাদ এই বায়ু আন্দামান সাগরে পৌঁছালেও এবার পরিস্থিতি অনুকূল থাকায় দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে বর্ষা।
আবহাওয়ার বৈচিত্র্যময় রূপ ও বৃষ্টিপাত
বর্ষার আগমনের এই আবহে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আবহাওয়ার দুই বিপরীতমুখী ছবি দেখা যাচ্ছে। একদিকে উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিতে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে, অন্যদিকে উত্তর-পশ্চিম ও মধ্য ভারতে বজায় রয়েছে তীব্র তাপপ্রবাহ। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ১৯ মে পর্যন্ত অরুণাচল প্রদেশ, আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি চলবে। দক্ষিণ ভারতেও তামিলনাড়ু, কেরালা ও কর্ণাটকে আগামী ১৭ মে পর্যন্ত ঝড়-বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যার ফলে কৃষি ও জনজীবনে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে।
তাপপ্রবাহ ও পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব
স্বস্তির বৃষ্টির বার্তার পাশাপাশি উত্তর ও মধ্য ভারতে সূর্যর তেজ কমার লক্ষণ নেই। মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাটের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘর ছুঁয়েছে, ফলে সেখানে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি রয়েছে। তবে একটি নতুন পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও দিল্লিতে বিক্ষিপ্ত বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে ভ্যাপসা গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে মৌসুমী বায়ুর আগাম আগমন খরাপ্রবণ এলাকাগুলোতে স্বস্তি ফেরাবে এবং কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।