বাঁশির সুরে কি সত্যিই সাপ নাচে? রহস্য উন্মোচনে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য

বাঁশির সুরে কি সত্যিই সাপ নাচে? রহস্য উন্মোচনে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য

ছোটবেলা থেকে মেলা কিংবা সিনেমার পর্দায় সাপুড়ের বিনের সুরে সাপের দোলার দৃশ্য আমরা সবাই দেখেছি। এই দৃশ্য দেখে সাধারণ মানুষের মনে এক বদ্ধমূল ধারণা তৈরি হয়েছে যে, সাপ বুঝি সংগীতপ্রেমী এবং বাঁশির সুর শুনেই সে নাচতে শুরু করে। তবে বিজ্ঞানের আধুনিক বিশ্লেষণ বলছে, এই প্রচলিত ধারণাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এর পেছনে রয়েছে সাপের আত্মরক্ষার কৌশল।

শ্রবণশক্তিহীন সাপের নাচের নেপথ্যে নড়াচড়া

জীববিজ্ঞানীদের মতে, সাপের কোনো বহিঃকর্ণ নেই, যার ফলে তারা মানুষের মতো বাতাসের শব্দ তরঙ্গ শুনতে পায় না। তাহলে সাপুড়ে যখন বাঁশি বাজায়, তখন সাপ কেন দুলতে থাকে? এর আসল কারণ হলো সাপুড়ের হাতের বাঁশিটির নড়াচড়া। সাপুড়ে যখন বাঁশি বাজানোর সময় সেটি ডানে-বামে নাড়াতে থাকেন, সাপ তখন সেই নড়াচড়াকে একটি সম্ভাব্য বিপদ বা আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত করে। নিজের সুরক্ষার খাতিরে সাপ তার দৃষ্টি সর্বদা সচল বস্তুটির (বাঁশি) ওপর নিবদ্ধ রাখে এবং সেই গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজের শরীর দোলাতে থাকে। দর্শকদের কাছে সাপের এই আত্মরক্ষার ভঙ্গিটিই ‘নাচ’ বলে ভ্রম তৈরি করে।

কম্পন এবং সহজাত প্রবৃত্তি

শব্দ শুনতে না পেলেও সাপ মাটির কম্পন বুঝতে অত্যন্ত পারদর্শী। তাদের শরীরের নিচের অংশের হাড় ও স্নায়ু মাটির সামান্যতম স্পন্দনও শনাক্ত করতে পারে। সাপুড়ে যখন বাঁশি বাজানোর সময় মাটিতে পা দিয়ে তাল দেন বা নড়াচড়া করেন, সেই কম্পন সাপকে সতর্ক করে তোলে। ফলে সাপ তার ফণা তুলে চারপাশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার চেষ্টা করে।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিষ্ঠুরতা

সাপের এই ‘নাচ’ দেখানোর আড়ালে লুকিয়ে থাকে চরম নিষ্ঠুরতা। অনেক ক্ষেত্রে সাপুড়েরা নিরাপত্তার খাতিরে সাপের বিষদাঁত উপড়ে ফেলে বা মুখ সেলাই করে দেয়, যা একটি বন্যপ্রাণীর জন্য অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। বর্তমানে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের কঠোর প্রয়োগের ফলে এই প্রথাটি বিলুপ্তির পথে। মূলত লোকবিশ্বাস আর বিনোদনের বাণিজ্যিক প্রসারের কারণেই বাঁশির সুরে সাপের নাচের বিষয়টি বছরের পর বছর টিকে আছে, যার সাথে বাস্তব বিজ্ঞানের কোনো সম্পর্ক নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *