‘২ আইপিএস-কে জেলে পাঠিয়েছিলাম’, মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক দাবি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের

কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে সৃষ্ট নজিরবিহীন অস্থিরতা ও বিক্ষোভের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে খড়গহস্ত হয়ে উঠেছেন তৃণমূলের আইনজীবী-সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট-পরবর্তী হিংসায় ঘরছাড়াদের ফেরাতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরাসরি কারাদণ্ডের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তাঁর এই মারমুখী অবস্থান প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি শাসক-বিরোধী সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
পুরনো রেকর্ডের হুঁশিয়ারি ও আইনি পদক্ষেপের হুমকি
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানান, ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে যাঁরা ঘরছাড়া হয়েছেন, তাঁদের সসম্মানে ও সুরক্ষিতভাবে বাড়িতে ফেরানোর দায়িত্ব সম্পূর্ণ পুলিশের। এই কাজে কোনো প্রকার শৈথিল্য বা গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন। নিজের অতীত অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “পুলিশ দায়িত্ব পালন না করলে আদালত অবমাননার মামলা করব। আমার রেকর্ড মনে রাখবেন, এর আগে দু’জন আইপিএস অফিসারকে জেলে ঢুকিয়েছিলাম। আইন অনুযায়ী কাজ না করলে কাউকেই ছাড়ব না।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আমলাতন্ত্রের ওপর আইনি চাবুক চালাতে তিনি পিছপা হবেন না।
রাজনৈতিক সংঘাত ও প্রশাসনিক প্রভাব
হাইকোর্ট চত্বরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান ও হেনস্থার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের কড়া সমালোচনা করেন শ্রীরামপুরের এই সাংসদ। তিনি এই ঘটনাকে নজিরবিহীন এবং প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একইসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। মূলত ঘরছাড়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আদালতের কড়া নির্দেশ থাকায়, পুলিশ যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে আইনি জটিলতা আরও বাড়তে পারে। কল্যাণের এই আক্রমণাত্মক মনোভাব প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে অস্বস্তি বাড়ানোর পাশাপাশি আইনি লড়াইয়ের ক্ষেত্রকে আরও প্রশস্ত করে তুলল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।