শপথ নিলেন কুণাল, দলের অন্দরেই ‘কাঁদুনি’ রাজনীতির অভিযোগে বিস্ফোরক বেলেঘাটার বিধায়ক

বিধানসভায় আজ এক নাটকীয় মুহূর্তের সাক্ষী থাকল রাজনৈতিক মহল। বেলেঘাটা কেন্দ্রের নবনির্বাচিত বিধায়ক হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের কুণাল ঘোষ। তবে শপথ পর্ব শেষ হতেই সমাজমাধ্যমে তাঁর একটি পোস্ট ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। একদিকে দীর্ঘদিনের পরিচিত তাপস রায়ের হাত থেকে শপথ নেওয়াকে তিনি ‘ভাগ্যচক্র’ বলে অভিহিত করেছেন, অন্যদিকে দলের অভ্যন্তরে এক প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।
শপথগ্রহণে ব্যক্তিগত আবেগ ও রাজনৈতিক সমীকরণ
বিধানসভায় এদিন প্রোটেম স্পিকার হিসেবে কুণাল ঘোষকে শপথবাক্য পাঠ করান বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়। এই ঘটনাকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। কুণাল ঘোষ নিজেই সেই মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে জানান, এক সময় তাপস রায়কে তৃণমূলে ধরে রাখার জন্য তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন, এমনকি সেই কারণে তাঁকে দলের রোষানলে পড়ে সাসপেন্ড পর্যন্ত হতে হয়েছিল। আজ সেই তাপস রায়ের কাছেই বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়াকে তিনি জীবনের এক অদ্ভুত মোড় বা ‘ভাগ্যচক্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
নিশানায় স্বজনপোষণ ও হোয়াটসঅ্যাপ রাজনীতি
শপথের আনন্দ ছাপিয়ে কুণাল ঘোষের নিশানায় উঠে এসেছে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। দলের এক প্রভাবশালী নেতার নাম না করে তিনি সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন ‘হোয়াটসঅ্যাপ কাঁদুনি পলিটিক্স’ এবং স্বজনপোষণের বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, এই ধরনের রাজনীতির কারণেই তাপস রায় বা সজল ঘোষের মতো নেতারা দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, যা শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের ক্ষতি করেছে। কর্মীরা ধৈর্য হারাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি অবিলম্বে আত্মবিশ্লেষণের দাবি তুলেছেন।
পোস্টের শেষে কুণালের ‘কেস দেবেন না প্লিজ’ মন্তব্যটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শ্লেষ তৈরি করেছে। অতীতে দলের নীতি বা নেতার বিরুদ্ধে সরব হয়ে তাঁকে যেভাবে আইনি ও দলীয় শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছিল, এটি তারই পাল্টা ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শপথের দিনই কুণালের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান আগামী দিনে দলের অন্দরে বড়সড় রদবদল বা নতুন কোনো সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সরাসরি নেতৃত্বের আনুগত্য স্বীকার করেও দলের ‘ক্ষতিকারক’ অংশের বিরুদ্ধে তাঁর এই রণংদেহি মনোভাব শাসক শিবিরের অস্বস্তি বাড়াতে পারে।