উত্তরের ‘আঁধি’ কি তবে প্রলয়ংকরী রূপ নিল!

উত্তর প্রদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মাত্র কয়েক ঘণ্টার তাণ্ডবে তছনছ হয়ে গিয়েছে জনজীবন। এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১০৪ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গিয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভাদোহি জেলা। ঝড়ের তীব্রতায় উপড়ে গিয়েছে অগণিত গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি, যার ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি বিঘার পর বিঘা ফসলি জমি নষ্ট হওয়ায় কৃষকরা চরম সংকটে পড়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে ঝড়ের ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে, যেখানে টিনের চালের সঙ্গে মানুষকে পর্যন্ত উড়ে যেতে দেখা গিয়েছে।
কেন এই প্রলয়ংকরী রূপ
ভূ-বিজ্ঞানীদের মতে, উত্তর ভারতের এই দুর্যোগ মূলত এক শক্তিশালী ‘আঁধি’, যা অনেকটা বাংলার কালবৈশাখীর সমগোত্রীয়। মে মাসে উত্তর ভারতের তাপমাত্রা সাধারণত ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। এই প্রচণ্ড গরমে ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বাতাস দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উপরে উঠে যায়, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘পরিচালন’ বলা হয়। এই শূন্যস্থান পূরণে আশেপাশের শীতল ও আর্দ্র বাতাস তীব্র গতিতে ধেয়ে আসে, যা আকাশজুড়ে বিশাল আকারের ‘কিউমুলোনিম্বাস’ বা বজ্রগর্ভ মেঘের সৃষ্টি করে। আইআইটিএম পুনের গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই প্রক্রিয়ার ফলেই উত্তর ভারতে বিধ্বংসী আঁধির উৎপত্তি হয়।
তীব্র গতিবেগ ও সম্ভাব্য প্রভাব
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৫০ থেকে ১০০ কিলোমিটার। বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টির সঙ্গে এই প্রচণ্ড গতির বাতাসই মূলত প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বায়ুমণ্ডলের এই অস্থিরতা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে উপদ্রুত এলাকায় উদ্ধারকাজ চলছে এবং ধ্বংসস্তূপ সরানোর সাথে সাথে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করাই এখন স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।