টালমাটাল বিশ্ববাজার, ভারতের অর্থনীতি বাঁচাতে বিদেশি বিনিয়োগে কর ছাড়ের পথে কেন্দ্র

টালমাটাল বিশ্ববাজার, ভারতের অর্থনীতি বাঁচাতে বিদেশি বিনিয়োগে কর ছাড়ের পথে কেন্দ্র

ইরানকে কেন্দ্র করে আরব দুনিয়ার ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক সংকটের জেরে ভারতের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় নজিরবিহীন তৎপরতা শুরু হয়েছে দেশে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রশাসনকে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার পর থেকেই নীতিনির্ধারক মহলে শুরু হয়েছে নানামুখী ভাবনা-চিন্তা। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা দেশের অর্থনীতিতে যাতে বড় কোনো বিপর্যয় ডেকে আনতে না পারে, সেজন্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ভারতের বাজারে ধরে রাখা এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্র।

বিনিয়োগ বাড়াতে আয়করে আকর্ষণীয় ছাড়ের পরিকল্পনা

বর্তমানে ভারতের বাজারে বিদেশি বিনিয়োগ টানতে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক এবং রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। ব্যাংক সূত্রে খবর, ভারতীয় বন্ডে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে তাদের আয়ের ওপর কর ছাড় দেওয়ার একটি বড় পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এ দেশে অর্জিত আয়ের ওপর ২০ শতাংশ হারে কর দিতে হয়, যা আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বেশ চড়া। ২০২৩ সাল পর্যন্ত এই করের হার ছিল মাত্র ৫ শতাংশ। এশীয় অঞ্চলে চিনের মতো প্রতিযোগী দেশগুলো বিদেশি পুঁজির জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় প্যাকেজ দিচ্ছে। ফলে ভারতের বাজারকে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে করের হার কমানোর বিষয়ে অর্থ মন্ত্রক ও রিজার্ভ ব্যাংকের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক চলছে।

সংকট মোকাবিলায় ২০১৩ সালের সফল মডেলের ভাবনা

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং মূল্যবৃদ্ধির যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারি ব্যয় হ্রাস এবং দেশের বিদেশি মুদ্রার ভান্ডার মজবুত করার নির্দেশ দিয়েছেন। ডলারের জোগান ঠিক রাখতে এবং রিজার্ভ বাড়াতে ২০১৩ সালের একটি সফল কৌশল পুনরায় ব্যবহারের কথা ভাবছেন শীর্ষ কর্তারা। সে বছর আমেরিকার মুদ্রানীতির পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট অস্থিরতা সামাল দিতে আরবিআই তিন মাসের জন্য একটি বিশেষ ‘বিদেশি মুদ্রা অনাবাসী আমানত অদলবদল ব্যবস্থা’ বা ‘সোয়াপ উইন্ডো’ চালু করেছিল। এর মাধ্যমে তৎকালীন সময়ে ব্যাংকিং খাত ২৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশি মুদ্রা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছিল। বর্তমান সংকটেও এই ধরনের ‘বিদেশি আমানত প্রকল্প’ চালুর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে কর ছাড় এবং বিশেষ অনাবাসী প্রকল্প চালুর বিষয়ে নীতি নির্ধারকদের মধ্যে এখনও সম্পূর্ণ ঐকমত্য তৈরি হয়নি। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই পদক্ষেপগুলো পরিকল্পনা মাফিক ফল দেবে কি না, তা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরে কিছুটা সংশয় রয়েছে। তা সত্ত্বেও দেশের আর্থিক ভিত্তি সুরক্ষিত রাখতে দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে কেন্দ্র।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *