‘বুলডোজার-রাজ চলবে না’, তপসিয়ায় উচ্ছেদ রুখে বিজেপি সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি সিপিএমের

‘বুলডোজার-রাজ চলবে না’, তপসিয়ায় উচ্ছেদ রুখে বিজেপি সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি সিপিএমের

তপসিয়ায় বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে ঘরবাড়ি ভাঙার প্রশাসনিক তৎপরতায় সাময়িক ব্রেক কষল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের এই স্থগিতাদেশকে নিজেদের বড় জয় হিসেবে দেখছে বামপন্থীরা, কারণ উচ্ছেদের বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়ে আইনি লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাঁরাই। শুক্রবার আদালতের সেই নির্দেশের প্রতিলিপি (কপি) স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে তুলে দিয়ে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিল সিপিএম নেতৃত্ব।

উচ্ছেদ রুখে আইনি জয় বামেদের

তিলজলা-তপসিয়া এলাকায় বেআইনি কাঠামো ভাঙার নামে যেভাবে সাধারণ মানুষের বাসস্থান গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল, তার বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বামপন্থী আইনজীবীরা। হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া এবং যথাযথ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে এভাবে তড়িঘড়ি কারও মাথা গোঁজার ঠাঁই কেড়ে নেওয়া যাবে না। আদালতের এই স্থগিতাদেশের কপি হাতে পেয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন এলাকার আতঙ্কিত বাসিন্দারা।

সংখ্যালঘুদের টার্গেট করার অভিযোগ

স্থগিতাদেশের প্রতিলিপি বিলি করার পর এক সভায় সিপিএম নেতারা রাজ্যের শুভেন্দু অধিকারী সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁদের অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশ বা দিল্লির মতো এবার বাংলাতেও ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’ আমদানি করার চেষ্টা করছে বিজেপি। সুপরিকল্পিতভাবে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে কোণঠাসা করতেই এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছিল বলে দাবি বামেদের। সিপিএম নেতৃত্বের সাফ কথা, “বেআইনি নির্মাণের আড়ালে গরিব ও সংখ্যালঘুদের বাসস্থান কেড়ে নেওয়ার এই চক্রান্ত আমরা সফল হতে দেব না।”

তীব্র প্রতিবাদের হুঁশিয়ারি

সিপিএম স্পষ্ট করে দিয়েছে, রাজ্যে কোনো ধরনের ‘বুলডোজার-রাজ’ বরদাস্ত করা হবে না। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশাসনের এই দমনমূলক নীতির বিরুদ্ধে তাঁরা শুধু আদালতেই নয়, রাস্তায় নেমেও আন্দোলন জারি রাখবেন। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা রুখতে এবং শহরের সুরক্ষার স্বার্থেই বেআইনি ও বিপজ্জনক নির্মাণের বিরুদ্ধে এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো যোগ নেই। তবে হাইকোর্টের এই স্থগিতাদেশের পর আপাতত তপসিয়ার ভাঙন-স্থলে বুলডোজারের চাকা থমকে গেল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *