ব্যানারে মমত্ব ছেড়ে সৌজন্যের নজির, নিজের ছবি সরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে আগে রাখার নির্দেশ শমীকের

দলীয় কর্মসূচির ব্যানারে নিজের ছবি আগে রাখার ‘দস্তুর’ ভেঙে এক নজিরবিহীন সৌজন্যের নজির গড়লেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এতদিন রাজ্যে দলের যেকোনো পোস্টার বা ব্যানারে প্রোটোকল অনুযায়ী সভাপতির ছবি প্রথমে এবং পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি স্থান পাচ্ছিল। কিন্তু এই চেনা নকশা বদলানোর জন্য খোদ রাজ্য সভাপতি নিজেই সরব হলেন। শুক্রবার দলের এক সাংগঠনিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, এখন থেকে সমস্ত ব্যানারে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবিই আগে থাকবে, তাঁর ছবি থাকবে পরে।
সাংগঠনিক বৈঠকে ক্ষোভ ও সংশোধন
বিজেপি দলীয় সূত্রের খবর, শুক্রবারের রুদ্ধদ্বার সাংগঠনিক বৈঠকে রাজ্যজুড়ে হওয়া বিভিন্ন কর্মসূচির ব্যানারের ডিজাইন নিয়ে আলোচনা উঠতেই আপত্তি তোলেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি সাফ জানান, প্রশাসনিক ও সাংগঠনিকভাবে রাজ্যে দলের প্রধান মুখ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাই প্রোটোকলের দোহাই দিয়ে তাঁর ছবি পরে রাখা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের তিনি নির্দেশ দেন, অবিলম্বে যেন এই নকশা সংশোধন করা হয় এবং সব জায়গায় মুখ্যমন্ত্রীর ছবিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
ব্যক্তিগত প্রচারের চেয়ে দলীয় ভাবমূর্তি বড়
শমীক ভট্টাচার্যের এই সিদ্ধান্তকে দলের অন্দরে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কর্মীরা। ক্ষমতার অলিন্দে যেখানে নেতাদের মধ্যে নিজেদের ছবি বড় করে দেখানোর অলিখিত প্রতিযোগিতা চলে, সেখানে শমীকের এই ‘বাধ্যবাধকতাহীন’ পদক্ষেপ দলের ভেতরের শৃঙ্খলাকে আরও মজবুত করবে বলে ধারণা। রাজ্য সভাপতির ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রের দাবি, তিনি বরাবরই পদ বা ছবির চেয়ে দলের যৌথ নেতৃত্ব এবং কাজের ওপরেই বেশি জোর দিতে ভালোবাসেন।
নতুন ব্যানার প্রটোকল
এই নির্দেশের পর রাজ্য বিজেপির আইটি সেল এবং প্রচার শাখা ইতিমধ্যেই নতুন ডিজাইনের কাজ শুরু করে দিয়েছে। আগামী দিনে দলের যেকোনো কেন্দ্রীয় বা রাজ্য স্তরের কর্মসূচির ফ্লেক্স, ব্যানার এবং ডিজিটাল গ্রাফিক্সে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি রাজ্যের ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি থাকবে সবার সামনে। তার পরেই স্থান পাবেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। নতুন সরকারের প্রথম দিকেই দুই শীর্ষ নেতার এই বোঝাপড়া ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা রাজ্য রাজনীতিতে এক সুস্থ বার্তা দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।