‘আমি ভয় পাওয়ার পাত্র নই’, সনাতন ধর্ম বিতর্কে অনড় থেকে ব্যাখ্যা ডিএমকে নেতা উদয়নিধির

তামিলনাড়ু বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা ডিএমকে (DMK) নেতা উদয়নিধি স্ট্যালিন সনাতন ধর্ম নির্মূল করার বিষয়ে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের মুখে অবশেষে সাফাই দিয়েছেন। চাপের মুখে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর আসল উদ্দেশ্য ছিল সমাজে মানুষকে উঁচু-নিচু জাতিতে বিভক্ত করার বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার অবসান ঘটানো, কোনো ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করা নয়।
এর আগে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে নিজের প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাষণেই তিনি পুনরায় ‘সনাতন ধর্ম’ মুছে ফেলার আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, এই ব্যবস্থা মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ তৈরি করে। তবে দেশজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি তাঁর বক্তব্যের প্রেক্ষাপট স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছেন।
ধর্মের বিরোধিতা নয়, লক্ষ্য বৈষম্য দূর করা
উদয়নিধি স্ট্যালিন তাঁর সাফাইয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে, জাতিভেদ প্রথা বিলুপ্ত করার কথা বলার অর্থ এই নয় যে কাউকে মন্দিরে যেতে বাধা দেওয়া হবে। বরং এর প্রকৃত অর্থ হলো—সমাজ এবং মন্দির, সব জায়গাতেই যেন প্রতিটি মানুষ সমান অধিকার পায়। তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁদের দল কারও ঈশ্বরভক্তি বা ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরোধী নয়, তবে সমাজে বিদ্যমান আসামতা ও শোষণের বিরুদ্ধে তাঁদের লড়াই জারি থাকবে। নিজের এই আদর্শকে তিনি পেরিয়ার, ড. বি আর আম্বেদকর এবং এম করুণানিধির মতো মণীষীদের ভাবধারার অনুসারী বলে উল্লেখ করেছেন।
পুরনো বিতর্কের পুনরাবৃত্তি ও রাজনৈতিক প্রভাব
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসেও উদয়নিধি সনাতন ধর্মের তুলনা কিছু মারাত্মক রোগের সঙ্গে করে তা নির্মূল করার কথা বলেছিলেন, যা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার মুখেও পড়তে হয়েছিল তাঁকে। এবার বিধানসভায় সেই একই মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় স্তরে বিরোধী জোটের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় এবং আইনি জটিলতা এড়াতেই উদয়নিধিকে দ্রুত এই সুর নরম ও স্পষ্টীকরণ দিতে হলো। তবে তাঁর এই ব্যাখ্যার পরও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো তাঁর আগের অনমনীয় অবস্থানের তীব্র সমালোচনা অব্যাহত রেখেছে।