সরাসরি শুনবেন অভাব-অভিযোগ, এবার বাংলায় শুরু হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’!

সরাসরি শুনবেন অভাব-অভিযোগ, এবার বাংলায় শুরু হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’!

পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের সমস্যা ও অভিযোগ সরাসরি শুনতে এক অভিনব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও ওড়িশার মতো রাজ্যগুলোর ‘জনশুনানি’ কর্মসূচির আদলে এবার বাংলাতেও চালু হতে চলেছে ‘জনতার দরবার’। নবগঠিত রাজ্য সরকারের প্রথম বিধানসভা অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই জনমুখী কর্মসূচির ঘোষণা দেন। রাজ্য প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে এই কর্মসূচির প্রস্তুতি ও বিস্তারিত রূপরেখা তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কর্মসূচির আওতায় মুখ্যমন্ত্রী সপ্তাহে এক বা দুই দিন, নির্দিষ্ট দুই ঘণ্টার জন্য সরাসরি সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হবেন এবং তাঁদের অভাব-অভিযোগ শুনবেন। দ্রুত সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি সেই দরবারে উপস্থিত থাকবেন শীর্ষস্তরের প্রশাসনিক আধিকারিকরাও। প্রশাসনের শীর্ষ সূত্রের খবর, পুরো বিষয়টি বর্তমানে পরিকল্পনা স্তরে থাকলেও দ্রুতই এটিকে চূড়ান্ত রূপ দিয়ে মাঠে নামানো হবে।

উত্তপ্ত বিধানসভায় সৌহার্দ্যের বার্তা ও নতুন উদ্যোগ

শুক্রবার নবগঠিত রাজ্য সরকারের প্রথম বিধানসভা অধিবেশনের শুরুতেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কক্ষ। একপর্যায়ে প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়করা কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝেই নিজের প্রথম ভাষণ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বিরোধীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পরম্পরা মেনে এবং বিধানসভার নিয়মকানুন বজায় রেখে চলার আহ্বান জানান। এই ভাষণেই তিনি রাজ্যবাসীর জন্য তাঁর এই নতুন পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেন।

জনসংযোগ বৃদ্ধি ও দ্রুত সমাধানের নতুন দিগন্ত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল স্তরের মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ যেমন তাঁদের সমস্যার কথা সরাসরি রাজ্যের সর্বোচ্চ অভিভাবককে জানানোর সুযোগ পাবেন, তেমনই মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক জবাবদিহিতাও বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। অন্য রাজ্যগুলোতে এই ধরণের কর্মসূচি সফল হওয়ায়, পশ্চিমবঙ্গেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *