নতুন মহামারির আশঙ্কা জাগিয়ে তুলছে অ্যান্ডিজ হান্টাভাইরাস, উদ্বেগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

সম্প্রতি একটি ক্রুজ জাহাজে অ্যান্ডিজ হান্টাভাইরাসের সংক্রমণে একাধিক মৃত্যুর পর বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই ভাইরাস মানুষের শরীরে ঠিক কত দিন সক্রিয় থাকে এবং কত দিন অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত নন বিজ্ঞানীরা। উদ্ভূত পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রেখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বিশেষ গবেষণা শুরু করেছে।
সংক্রমণের ভিন্ন রূপ ও বিজ্ঞানীদের উদ্বেগ
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্ডিজ হান্টাভাইরাস সাধারণ হান্টাভাইরাসের তুলনায় অনেক বেশি বিপজ্জনক। এটি কেবল বাতাস বা ইঁদুরের মাধ্যমেই ছড়ায় না, বরং মানুষের শরীরের বিভিন্ন তরল যেমন লালা, মাতৃদুগ্ধ এবং শুক্রাণুর মাধ্যমেও সংক্রমিত হতে পারে। সম্প্রতি ‘এমভি হন্ডিয়াস’ নামক একটি ক্রুজ জাহাজে এই ভাইরাসে ১১ জন আক্রান্ত হন এবং ৩ জনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ বা যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের আরও চিন্তিত করে তুলেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই ভাইরাসের সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই; আক্রান্তদের মূলত অক্সিজেন, ব্যথানাশক এবং ফুসফুসের যত্নের মতো সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
চলতি গবেষণা ও ভবিষ্যতের ঝুঁকি
ডব্লিউএইচও-র ইমার্জিং ডিজিজেস অ্যান্ড জোনোসিস ইউনিটের প্রধান মারিয়া ভ্যান কেরখোভে জানিয়েছেন, ভাইরাসের জীবনচক্র বুঝতে ‘ন্যাচারাল হিস্ট্রি স্টাডি’ নামের একটি বিশেষ গবেষণা চালানো হচ্ছে। এর অধীনে কোয়ারান্টিনে থাকা ব্যক্তিদের রক্ত, লালা ও শুক্রাণুর নমুনা নিয়মিত পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, ভাইরাসটি যদি সুস্থ হয়ে যাওয়ার পরও দীর্ঘ সময় শরীরে লুকিয়ে থাকতে পারে, তবে তা অজান্তেই বড় আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গবেষণার ফল সামনে এলে আক্রান্তদের আইসোলেশন ও যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট স্বাস্থ্য নির্দেশিকা জারি করা হতে পারে।