‘হেরো মুখ্যমন্ত্রীর ইশারায় যাঁরা প্রমাণ লোপাট করেছেন, তাঁরা সাসপেন্ড’, পুলিশকর্তাদের কল রেকর্ড ও চ্যাট ফাঁসের হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার সভা থেকে আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ‘অভয়া’ কাণ্ড টেনে পুলিশ প্রশাসনের একাংশকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিগত তৃণমূল জমানায় যে সমস্ত পুলিশ আধিকারিক তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের স্বার্থে কাজ করেছেন, তাঁদের দিন এবার শেষ বলে স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি। ফলতার মঞ্চ থেকে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার সমস্ত কর্তাদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিগত দিনে কারা ‘ভাইপো’ ও তাঁর আপ্তসহায়কের (PA) কথায় সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার চালিয়েছেন, তাঁর সমস্ত প্রমাণ এবার পুলিশকেই জমা করতে হবে।
সাসপেন্ড হয়েছেন প্রমাণ লোপাটকারীরা, এখানেও ছাড় নেই: মুখ্যমন্ত্রী
জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় আরজি কর কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে বলেন:
“অভয়ার ঘটনায় আগের মুখ্যমন্ত্রীর ইশারায় যাঁরা প্রমাণ লোপাট করতে চেয়েছিলেন, আগের ওই হেরো মুখ্যমন্ত্রীর কথায় যাঁরা মৃত চিকিৎসকের পরিবারকে টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করতে অর্থাৎ ঘুষ দিতে গিয়েছিলেন, তাঁরা আজ আইনের খাঁচায় বন্দি এবং চাকরি থেকে সাসপেন্ড হয়েছেন। মনে রাখবেন, ফলতা বা ডায়মন্ড হারবারেও কিন্তু কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
কল রেকর্ড ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ফাঁসের হুঁশিয়ারি
ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার আধিকারিকদের উদ্দেশে এক নজিরবিহীন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, বিগত নির্বাচনের সময় এবং তার আগে সাধারণ মানুষের ওপর হওয়া সমস্ত অত্যাচারের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব নেওয়া হবে। তিনি বলেন:
- চ্যাট ও কল রেকর্ড জমার নির্দেশ: এলাকার পুলিশকর্তারা কার কার নির্দেশে কাজ করছিলেন, তা জানতে তাঁদের সমস্ত অফিশিয়াল ও পার্সোনাল মোবাইল ফোনের কল রেকর্ডস (Call Records) এবং হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট (WhatsApp Chats) তদন্তকারী দলের কাছে জমা দিতে হবে।
- ভাইপোর সিন্ডিকেটের পর্দাফাঁস: ‘ভাইপো’ এবং তাঁর পিএ-এর মৌখিক নির্দেশে যাঁরা ডায়মন্ড হারবার ও ফলতার সাধারণ মানুষ এবং বিরোধী কর্মীদের ওপর মিথ্যা মামলা দিয়েছেন বা শারীরিক অত্যাচার করেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের নাম ও কুকীর্তি সামনে আনা হবে।
শুভেন্দু অধিকারী চড়া সুরে হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “আমি—শুভেন্দু অধিকারী—সব বার করব। আইন মেনেই কার্পেট স্ক্রিনিং হবে এবং দোষী পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোরতম বিভাগীয় ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর পুলিশ প্রশাসনের একাংশের রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব যে তিনি কোনোভাবেই বরদাস্ত করবেন না, এই কল রেকর্ড এবং চ্যাট তলবের হুঁশিয়ারি দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী সেই প্রশাসনিক সংস্কারেরই চূড়ান্ত সলতে পাকানো শুরু করে দিলেন।