‘ঝালমুড়ি কি এখানেও পৌঁছে গিয়েছে?’ পশ্চিমবঙ্গ জয়ের রেশ এবার নেদারল্যান্ডসে প্রবাসীদের দরবারেও মোদীর মুখে বাংলার স্বাদ

বাংলায় পদ্মশিবিরের ঐতিহাসিক ও অভূতপূর্ব বিজয়ের রেশ এবার সুদূর ইউরোপের মাটিতেও আছড়ে পড়ল। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে প্রবাসী ভারতীয়দের এক বিশাল সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখে উঠে এলো বাংলার অত্যন্ত জনপ্রিয় খাবার ‘ঝালমুড়ি’-র কথা। বাংলায় প্রথম বিজেপি সরকার গঠন ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রবাসী বাঙালিদের উচ্ছ্বাস দেখে প্রধানমন্ত্রী নিজের চেনা রসিক মেজাজে ঝালমুড়ির এই প্রসঙ্গ টেনে আনেন।
নির্বাচনী সাফল্যের উল্লাস সুদূর হেগেও
শনিবার হেগ শহরে প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা ও মতবিনিময় করছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বক্তব্যের মাঝে ভারতের সাম্প্রতিক রাজ্যগুলির বিধানসভা নির্বাচন, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ উঠতেই গোটা অডিটোরিয়াম জুড়ে উপস্থিত প্রবাসীদের কাছ থেকে তুমুল করতালির পাশাপাশি উল্লাসধ্বনি ভেসে আসে।
হর্ষধ্বনি ও প্রবাসীদের বিপুল উদ্দীপনা দেখে স্মিত হেসে প্রধানমন্ত্রী মঞ্চ থেকেই প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “ঝালমুড়ি কি এখানেও পৌঁছে গিয়েছে?” প্রধানমন্ত্রীর মুখে এই চেনা বাঙালি শব্দ শোনা মাত্রই উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে হাসির রোল ওঠে এবং হর্ষধ্বনির পারদ আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
ঝাড়গ্রামের সেই ‘ঝালমুড়ি’র স্মৃতি
প্রধানমন্ত্রীর এই ঝালমুড়ি মন্তব্যের পেছনে রয়েছে এক মজার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। ২০২৬-এর হাইপ্রোফাইল নির্বাচনী প্রচারের সময় জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রামে এক মেগা জনসভা করতে এসেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। সেখানে সভামঞ্চে ওঠার আগেই স্থানীয় এক বিক্রেতার কাছ থেকে শালপাতার ঠোঙায় করে ঝালমুড়ি কিনে খেয়েছিলেন তিনি। শুধু নিজেই খাওয়া নয়, বাংলার এই নিজস্ব স্বাদের ভূয়সী প্রশংসাও করেছিলেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নেদারল্যান্ডসের মাটিতে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ির এই চেনা অনুষঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী আসলে বুঝিয়ে দিলেন, সাত সমুদ্র তেরো নদী পার হয়ে এলেও বাংলার সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক ও আবেগগত সংযোগ কতটা নিবিড়। একই সঙ্গে প্রবাসীদের এই উচ্ছ্বাস প্রমাণ করছে যে, বাংলার এই ঐতিহাসিক ক্ষমতা বদলের হাওয়া শুধু দেশের বুকেই নয়, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী ভারতীয় ও বাঙালিদের মধ্যেও এক বিপুল আলোড়ন তৈরি করেছে।