‘কোথায় পুষ্পা, কোথায় আপনি? দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না’, ফলতায় দাঁড়িয়ে চরম হুংকার শুভেন্দুর

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় এক রাজনৈতিক জনসভা থেকে তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে খোদ ‘ভাইপো’ ও তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের বিরুদ্ধে চাঁছাছোলা ভাষায় তীব্র আক্রমণ শানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাধারণ নির্বাচনের সময় বিরোধীদের ওপর হওয়া গুন্ডামি ও ভোট-পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নতুন প্রশাসনের জমানায় রাজ্যের কোথাও কোনো রকম আইন-শৃঙ্খলার অবনতি বা দাপাদাপি সহ্য করা হবে না। একই সঙ্গে, মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টের সূত্র ধরে অপরাধীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমজনতার কাছে সরাসরি সময় চেয়ে নেন তিনি।
‘গুন্ডামি করতে দেব না, সাদা থান বাড়িতে ফেলতে দেব না’
ফলতার চেনা মাঠে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী এলাকার এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাকে (যাঁকে স্থানীয়স্তরে ‘পুষ্পা’ বলে ডাকা হয়) লক্ষ্য করে তীব্র কটাক্ষ ছুঁড়ে বলেন:
“ওই ডাকাতটা কোথায়, পুষ্পা না কী যেন নাম? যত অভিযোগ করেছে সাধারণ নির্বাচনের সময়, সবগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা হবে। এলাকায় কোনো গুন্ডামি করতে দেব না, নিশ্চিন্ত থাকুন। বিজেপি জমানায় বিরোধীদের বাড়িতে সাদা থান (বিধবাদের পোশাক) ফেলতে দেখব না। কোথায় পুষ্পা, কোথায় আপনি? এখন আর এলাকায় দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।”
মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্ট ও জাহাঙ্গির প্রসঙ্গ
বক্তৃতায় ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গ টেনে এনে মুখ্যমন্ত্রী তৎকালীন শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ‘সিন্ডিকেট’ ও অপরাধীদের যোগসূত্র নিয়ে বড় দাবি করেন। তিনি জানান, ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনার পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC) যে তদন্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দিয়েছিল, সেখানে রাজ্যের ১৯ জনকে ‘নটোরিয়াস ক্রিমিনাল’ বা কুখ্যাত অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, সেই কুখ্যাত অপরাধীদের তালিকার মধ্যেই অন্যতম প্রধান নাম ছিল ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ তথা ‘ভাইপো’র অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গির।
‘আমার উপর ছেড়ে দিন সেই দায়িত্ব’
আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, নতুন সরকার সমস্ত অপরাধীর ফাইল পুনরায় খুলছে। ফলতার মঞ্চ থেকে আমজনতার উদ্দেশ্যে তাঁর চড়া সুর, “ভাইপোর ওই জাহাঙ্গিরের ব্যবস্থা আমি নিজে করব। আমার উপর ছেড়ে দিন সেই দায়িত্ব। কোনো অপরাধীই পার পাবে না।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলায় ক্ষমতার ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো তৃণমূলের একদা ‘দুর্গ’ বলে পরিচিত এলাকায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারীর এই আক্রমণাত্মক ভাষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন নিচুতলার দলীয় কর্মীদের আশ্বস্ত করলেন, ঠিক তেমনই পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভাইপো-ঘনিষ্ঠ সিন্ডিকেটের জাল উপড়ে ফেলার স্পষ্ট রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বার্তা দিয়ে রাখলেন।