আমরা ডিজে বাজবে বলি না, ফলতায় রাজনৈতিক সৌজন্যের বার্তা শুভেন্দুর

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার সভা থেকে দলের নিচুতলার কর্মীদের চাঙ্গা করার পাশাপাশি এক অনন্য রাজনৈতিক সৌজন্য ও শৃঙ্খলার বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনী ফল প্রকাশের পর বিরোধী শিবিরের একাংশের উস্কানিমূলক ও হুঙ্কার সংস্কৃতির কড়া সমালোচনা করে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও বিজেপি কোনো রকম ঔদ্ধত্য বা পেশ পেশী প্রদর্শনে বিশ্বাসী নয়। আগামী ১৯ মে তিনি নিজেই ফলতার আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে এলাকায় আসছেন বলে ঘোষণা করেন।
‘আগে আমি দলের কর্মী, মানুষের কাজই আমার ধর্ম’
মুখ্যমন্ত্রী পদের গুরুভার সামলানোর পাশাপাশি দলের বুথস্তরের কর্মীদের সঙ্গে নিজের নিবিড় সংযোগের কথা মনে করিয়ে দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন:
“আমি যতই বড় দায়িত্বে থাকি না কেন, মনে রাখবেন—আগে আমি দলের একজন সাধারণ কর্মী। মানুষের কাজ করা এবং দলের কাজ করা, দুটোই আমার সমান দায়িত্ব ও কাজ।”
এলাকার আক্রান্ত কর্মীদের ভরসা জোগাতে নিজের আগামী কর্মসূচির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আগামী ১৯ মে ঠিক সকাল ১১টার সময় আমি ফলতায় পৌঁছোব। বিকেল ৫টা পর্যন্ত আমি নিজে এলাকার অলিতে-গলিতে ঘুরব। বিগত দিনে এই এলাকায় আমাদের যে সমস্ত কর্মী-সমর্থকেরা মার খেয়েছেন, তাঁদের সসম্মানে রাখবেন। আমি নিজে এসে আমাদের বয়স্ক মানুষদের প্রণাম করব এবং ছোটদের বুকে টেনে নিয়ে কোলাকুলি করব।”
‘অনিচ্ছুকের গায়ে আবির দেবেন না, এটাই বিজেপি’
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের অতীত মন্তব্য ও ‘৪ তারিখের পর ডিজে বাজবে’ বা ‘হিসেব বুঝিয়ে দেওয়া হবে’—জাতীয় হুমকি সংস্কৃতির দিকে সরাসরি আঙুল তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিজেপি এই ধরণের হিংসা বা উৎসবের নামে তান্ডব সমর্থন করে না। দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখার কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন:
- আমরা কখনো অহংকার করে বা বুক ঠুকে বলি না যে, অমুক তারিখের পর এলাকায় ডিজে বাজিয়ে বিজয় উৎসব হবে।
- আমাদের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, দলের জয় উদযাপনে ‘অভিনন্দন যাত্রা’ করুন, কিন্তু কোনো রকম অসভ্যতা নয়।
- উৎসবে মেতে উঠে কোনো অনিচ্ছুক মানুষ বা বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মীর গায়ে জোর করে আবির দেবেন না। কাউকে কোনো রকম হেনস্থা করা যাবে না।
বক্তৃতার শেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পরেও আমজনতার প্রতি এই যে শ্রদ্ধা, সংযম এবং সৌজন্য বজায় রাখা—এটাই হলো ভারতীয় জনতা পার্টির আসল সংস্কৃতি ও আদর্শ।” রাজনৈতিক মহলের মতে, ফলতার মতো একদা স্পর্শকাতর এলাকায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর এই বার্তা একদিকে যেমন আক্রান্ত কর্মীদের মনে বল বাড়াবে, ঠিক তেমনই দলের অতি-উৎসাহী কর্মীদের রাশ টেনে এলাকায় শান্তির পরিবেশ বজায় রাখার এক বড়সড় প্রশাসনিক ইঙ্গিত।