রেকর্ড গতিতে এগোচ্ছে চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পের কাজ, মাত্র ৬০ ঘণ্টাতেই সম্পন্ন লক্ষ্যমাত্রার ৫০ শতাংশ

রেকর্ড গতিতে এগোচ্ছে চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পের কাজ, মাত্র ৬০ ঘণ্টাতেই সম্পন্ন লক্ষ্যমাত্রার ৫০ শতাংশ

বিগত কয়েক বছর ধরে আইনি জট এবং প্রশাসনিক উদাসীনতায় আটকে থাকার পর, অবশেষে নতুন জমানায় চরম গতিতে ডানা মেলল চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্প। শুক্রবার রাত থেকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করার পর, মাত্র ৬০ ঘণ্টার কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের নির্ধারিত কাজের ৫০ শতাংশ সম্পন্ন করে এক নজিরবিহীন রেকর্ড গড়ল মেট্রো কর্তৃপক্ষ।

বাংলায় ক্ষমতার ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর মেগা পরিকাঠামো প্রকল্পগুলির জট ছাড়াতে নতুন সরকারের যে সদিচ্ছা, চিংড়িঘাটার এই গতি তারই জ্বলন্ত প্রমাণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

বিগত সরকারের জমানায় ৩ বছরের ‘ডেডলক’

ইএম বাইপাস এবং সল্টলেকের সংযোগস্থল চিংড়িঘাটায় মেট্রোর পিলার বসানো এবং রুট সম্প্রসারণের কাজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বিগত সরকারের শাসনে জমি জট, ট্রাফিক পুলিশের অনুমতি না মেলা এবং নানাবিধ আইনি জটিলতার কারণে বিগত প্রায় ৩ বছর ধরে এই কাজ সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। এর ফলে একদিকে যেমন প্রকল্পের খরচ বাড়ছিল, ঠিক তেমনই নিত্যদিন চরম যানজটের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল সাধারণ মানুষকে।

তবে মে মাসে বাংলায় বিজেপি ক্ষমতা দখল করতেই ছবিটা আমূল বদলে যায়। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশে রাজ্য প্রশাসন ও ট্রাফিক বিভাগ কালক্ষেপ না করে মেট্রো কর্তৃপক্ষকে কাজের সবুজ সংকেত ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দিয়ে দেয়।

উইকএন্ড ব্লকে ‘মেগা ড্রাইভ’ মেট্রো কর্তৃপক্ষের

প্রশাসনিক সবুজ সংকেত মিলতেই শুক্রবার রাত থেকে চিংড়িঘাটা মোড়ে মেগা ড্রাইভ শুরু করে রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (RVNL) ও মেট্রো কর্তৃপক্ষ। যানজট এড়াতে ছুটির দিনগুলিকে (Weekend) বেছে নিয়ে একটানা কাজ চালানো হয়। মেট্রো রেলের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন:

  • যুদ্ধকালীন তৎপরতা: আধুনিক প্রযুক্তির ক্রেন এবং অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ করে দিন-রাত এক করে কাজ চালানো হচ্ছে।
  • ৫০ শতাংশ কাজ শেষ: কাজ শুরুর মাত্র ৬০ ঘণ্টার মধ্যেই পিলারের কংক্রিটিং এবং রুট ক্লিয়ারেন্সের অর্ধেক কাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছে।
  • যানবাহন নিয়ন্ত্রণ: ট্রাফিক পুলিশের নিখুঁত সহযোগিতার কারণে বাইপাসের গাড়ি চলাচল সচল রেখেই এই জটিল কাজটি করা সম্ভব হচ্ছে।

মেট্রো কর্তৃপক্ষের আশা, রাজ্য সরকারের এই অভূতপূর্ব সহযোগিতা বজায় থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চিংড়িঘাটা পর্বের কাজ সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যাবে। এর ফলে নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর মেট্রো করিডরের অন্যতম বড় বাধাটি দূর হবে, যা কলকাতার পূর্ব প্রান্তের লক্ষ লক্ষ মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *