হাওড়া স্টেশনে নামল বুলডোজার! গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো সমস্ত বেআইনি দোকান

হাওড়া স্টেশন এবং তার সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে সম্পূর্ণ জবরদখল ও যানজট মুক্ত করতে এবার নজিরবিহীনভাবে কঠোর পদক্ষেপ নিল পূর্ব রেল প্রশাসন। স্টেশন চত্বরের দীর্ঘদিনের বেআইনি দখলদারদের হঠাতে রবিবার সকাল থেকেই নামানো হলো ‘বুলডোজার’। রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (RPF)-এর বিশাল বাহিনীর উপস্থিতিতে এই মেগা উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। খোদ হাওড়া স্টেশনের মতো সংবেদনশীল ও ব্যস্ততম এলাকায় বুলডোজার নামিয়ে একের পর এক অবৈধ গুমটি ও দোকানপাট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার এই বেনজির দৃশ্য দেখে কার্যত শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা এলাকায়।

জবরদখলকারীদের কব্জায় ছিল স্টেশনে ঢোকার মূল রাস্তা

পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার হাওড়া স্টেশনে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ যাত্রী যাতায়াত করেন। কিন্তু বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে স্টেশনের ওল্ড কমপ্লেক্স ও নিউ কমপ্লেক্সের মধ্যবর্তী অংশ, বাস টার্মিনাস সংলগ্ন এলাকা এবং স্টেশনে ঢোকার প্রধান রাস্তাগুলি কার্যত চলে গিয়েছিল একশ্রেণীর বেআইনি হকার ও জবরদখলকারীদের কব্জায়। এর ফলে:

  • চরম যানজট: স্টেশনের মুখে ট্যাক্সি, বাস ও সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতের পথ অত্যন্ত সংকীর্ণ হয়ে পড়েছিল, যার জেরে নিত্যদিন চরম যানজটের সৃষ্টি হতো।
  • যাত্রী নিরাপত্তা বিঘ্নিত: অবৈধ দোকানপাটের আড়ালে স্টেশন চত্বরে পকেটমারি ও অন্যান্য অসামাজিক কাজকর্ম বাড়ছিল বলে বারবার আরপিএফ-এর কাছে অভিযোগ জমা পড়ছিল।

আরপিএফ-এর অ্যাকশন ও বুলডোজার অভিযান

রেল সূত্রের খবর, বেআইনি দখলদারদের বারবার নোটিশ দিয়ে জায়গা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হলেও রাজনৈতিক দলগুলির একাংশের মদতে হকাররা তা অগ্রাহ্য করছিল। মে মাসে রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর এবং পরিকারঠামো সংস্কারে গতি আসতেই আরপিএফ কালক্ষেপ না করে বড়সড় অ্যাকশনে নামে।

রবিবার ভোরেই বিশাল আরপিএফ এবং রেলের ইঞ্জিনিয়ারিং টিম বুলডোজার নিয়ে হাওড়া স্টেশনের নিউ কমপ্লেক্সের সামনের রাস্তা ও সাবওয়ের সংযোগস্থলে পৌঁছায়। হকারদের কোনো রকম বাধা দেওয়ার সুযোগ না দিয়েই বুলডোজার চালিয়ে রাস্তার ওপর গজিয়ে ওঠা একের পর এক অবৈধ কাঠের ও টিনের গুমটি, প্লাস্টিকের ছাউনি দেওয়া দোকান নিমেষের মধ্যে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

রেল প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, হাওড়া স্টেশনকে বিশ্বমানের পরিকাঠামোয় রূপান্তর করার কাজ চলছে। যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেশনের ১০০ মিটারের মধ্যে আর কোনো নতুন বেআইনি জবরদখল বরদাস্ত করা হবে না। ভবিষ্যতে যাতে এই সমস্ত জায়গায় পুনরায় হকাররা বসতে না পারে, তার জন্য আরপিএফ-এর স্থায়ী পকেট বা পাহারার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রেলের এই কড়া ও ঝটিকা অভিযানে সাধারণ যাত্রীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও, রুটি-রুজি হারিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন উচ্ছেদ হওয়া হকারেরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *