জয়কে জেরা শুরু ED-র ম্যারাথন জেরা

জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার জমি ও বহুমূল্য সম্পত্তি দখল এবং অবৈধ আবাসন নির্মাণের মামলায় ইডির জালে থাকা কলকাতার নামী নির্মাণ ব্যবসায়ী জয় কামদারকে এবার প্রেসিডেন্সি জেলে গিয়ে জেরা করা শুরু করলেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) আধিকারিকেরা। রবিবার সকাল সকাল ইডির একটি বিশেষ তদন্তকারী দল আলিপুরের প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে পৌঁছায়। আদালত থেকে জেলের অন্দরে গিয়েই জয়কে জিজ্ঞাসাবাদের বিশেষ অনুমতি মেলার পর, এই হাই-প্রোফাইল মামলার জট ছাড়াতে তৎপরতা বাড়াল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
উদ্ধার হওয়া ডায়েরিই এখন ইডির তুরুপের তাস
ইডি সূত্রের খবর, এই মামলার তদন্তে নেমে সম্প্রতি জয় কামদারের আলিপুরের বিলাসবহুল আবাসন ও অফিসে ম্যারাথন তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছিল। সেই তল্লাশিতেই ইডি আধিকারিকদের হাতে আসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন ডায়েরি। সেই ডায়েরির পাতায় পাতায় টলিউডের প্রভাবশালী ও প্রভাবশালী পুলিশকর্তাদের আর্থিক লেনদেনের একাধিক চাঞ্চল্যকর কোড ও খতিয়ান রয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
বিশেষ করে, এই মামলার সূত্র ধরেই ইডির হাতে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হওয়া কলকাতার ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের সঙ্গে জয় কামদারের ঠিক কী ধরণের আর্থিক আদানপ্রদান চলত, তার বহু তথ্য ও সূত্র ওই ডায়েরিতে মিলেছে।
পুলিশ-প্রোমোটার চক্রের পর্দাফাঁসের লক্ষ্যে জেরা
তদন্তকারীদের অনুমান, কলকাতার বুকে সরকারি ও বেসরকারি জমি জালিয়াতি করে দখল এবং সমস্ত পুর-আইন বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একের পর এক অবৈধ বহুতল খাড়া করার পেছনে কাজ করছিল এক বড়সড় ‘পুলিশ-প্রোমোটার নেক্সাস’ বা চক্র।
- প্রভাবশালী যোগ: গ্রেফতার হওয়া ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস নিজের পদের অপব্যবহার করে জয় কামদারের এই বেআইনি নির্মাণ ও জমি দখলের সিন্ডিকেটে ঢাল হিসেবে কাজ করছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
- টাকার উৎস ও রুট: জালিয়াতির মাধ্যমে উপার্জিত কালো টাকা কোথায় কোথায় বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং তার কোনো অংশ প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা অন্য কোনো আমলার অ্যাকাউন্টে গিয়েছে কি না, সেই টাকার উৎস ও রুট (Money Trail) জানতেই মূলত জয়কে মুখোমুখি বসিয়ে এই জিজ্ঞাসাবাদ।
রবিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই জেরার পর্বে উদ্ধার হওয়া ডায়েরির নির্দিষ্ট কিছু কোড ও নামী ব্যক্তিদের নামের তালিকা জয়ের সামনে রেখে বয়ান রেকর্ড করছেন তদন্তকারীরা। ইডি আধিকারিকদের মতে, জয় কামদার এবং ডিসিপি শান্তনুর এই যৌথ সিন্ডিকেটের জল কতদূর গড়িয়েছে, তা আগামী কয়েকদিনের জেরায় আরও স্পষ্ট হবে এবং এর জেরে কলকাতার আরও বেশ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের নাম সামনে আসতে পারে।