সীমান্তে কাঁটাতারের জমি পরিদর্শনে খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া, ‘দেশের সুরক্ষায় কোনো আপোশ নয়’, স্পষ্ট বার্তা বনগাঁয়

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং দীর্ঘদিনের বকেয়া কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে এবার সরাসরি মাঠ পরিদর্শনে নামলেন রাজ্যের নতুন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য চিহ্নিত জমিগুলি রবিবার সশরীরে খতিয়ে দেখেন তিনি।
দিনকয়েক আগে নবান্নে অনুষ্ঠিত নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF)-এর হাতে হস্তান্তর করবে রাজ্য সরকার। সেই সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়িত করতেই মন্ত্রীর এই ঝটিকা সফর বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
সীমান্ত সুরক্ষায় কেন্দ্রের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা
জমি পরিদর্শনের পাশাপাশি মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া বর্ডার আউটপোস্টে কর্তব্যরত বিএসএফ আধিকারিক এবং জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। বিগত জমানায় জমি অধিগ্রহণ এবং পুনর্বাসনের জটে সীমান্তের বহু জায়গায় কাঁটাতারের কাজ থমকে ছিল, যার ফলে অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালানের মতো ঘটনা বাড়ছিল বলে অভিযোগ। নতুন সরকারের নীতি যে এই বিষয়ে সম্পূর্ণ কঠোর, তা স্পষ্ট করে দিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন:
“দেশের সার্বিক সুরক্ষার প্রশ্নে রাজ্য সরকার কোনো রকম রাজনৈতিক আপোশ করবে না। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে অত্যন্ত জরুরি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, সমস্ত আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত বিএসএফ-এর হাতে জমি তুলে দিতে হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বার্থ রক্ষার আশ্বাস
সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির বহু সাধারণ মানুষের চাষের জমি কাঁটাতারের ওপারে চলে যাওয়া বা জমি অধিগ্রহণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিন পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় গ্রামবাসীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন অশোক কীর্তনীয়া। তিনি সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জানান, দেশের সুরক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের স্বার্থ ও রুটি-রুজিও রক্ষা করা হবে। উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের বিষয়টি রাজ্য সরকার অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে দেখছে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, নতুন সরকার গঠনের পরপরই ৪৫ দিনের এই ডেডলাইন দিয়ে বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত এবং মন্ত্রীর নিজে মাঠে নেমে জমি পরিদর্শন করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে রাজ্য সরকার একদিকে যেমন সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতার বার্তা দিল, তেমনই আন্তর্জাতিক সীমান্তে অনুপ্রবেশ রুখতে নিজেদের কড়া অবস্থানও স্পষ্ট করে দিল।