তৃণমূল প্রধানের বাড়ি ভাঙচুর, নামল কেন্দ্রীয় বাহিনী

তৃণমূল প্রধানের বাড়ি ভাঙচুর, নামল কেন্দ্রীয় বাহিনী

রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর থেকেই গ্রামীণ স্তরের একাধিক দুর্নীতি ও দুর্নীতির পাহাড় জমে থাকা পঞ্চায়েতগুলির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ। এবার সেই ক্ষোভের আঁচ আছড়ে পড়ল হাওড়া জেলার আমতা বিধানসভা এলাকায়। আমতার কাশমূলি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অঞ্জলি দোলুই-এর বাসভবনে রবিবার দুপুরের দিকে চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালালেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা।

আবাস যোজনার বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কাটমানি খাওয়া এবং ১০০ দিনের কাজের (১০০ Days Work) টাকা আত্মসাতের মতো একাধিক গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগে এই হামলা চালানো হয় বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।

পালাবদল হতেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাশমূলি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অঞ্জলি দোলুই এবং তাঁর স্বামী—প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা তরুণ দোলুই দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একচেটিয়া দুর্নীতি চালিয়ে আসছিলেন।

  • আবাস যোজনায় কাটমানি: গরিব ও দুঃস্থ মানুষদের প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার পাকা বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই দম্পতি মাথাপিছু মোটা অঙ্কের টাকা কাটমানি হিসেবে পকেটে পুরেছেন বলে অভিযোগ। টাকা দেওয়ার পরও বহু মানুষ বাড়ি পাননি।
  • ১০০ দিনের কাজের মজুরি লোপাট: গ্রামের বহু সাধারণ শ্রমিক ১০০ দিনের কাজ করলেও তাঁদের ন্যায্য মজুরির টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে জালিয়াতি করে প্রধান ও তাঁর স্বামী আত্মসাৎ করেছেন বলে গ্রামবাসীদের দাবি।

বিগত দিনে প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ জানিয়েও তৎকালীন শাসক দলের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কোনো বিচার মেলেনি। কিন্তু মে মাসে রাজ্যে সরকার বদল হতেই আমতার সাধারণ মানুষ আর চুপ থাকেননি। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে এদিন শতাধিক গ্রামবাসী প্রধানের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন এবং একপর্যায়ে তা চরম রূপ নেয়। উত্তেজিত জনতা প্রধানের বাড়ির জানালা, গেট এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ।

ঘটনাস্থলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী

ঘটনার খবর পেয়েই আমতা থানার পুলিশ এবং এলাকায় টহলরত কেন্দ্রীয় বাহিনীর (Central Forces) একটি বড় দল দ্রুত কাশমূলি গ্রামে পৌঁছায়। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রধানের বাড়িটিকে ঘিরে ফেলে। এলাকায় নতুন করে যাতে কোনো বড়সড় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, তার জন্য গ্রামে রুট মার্চ করছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, এটি কোনো রাজনৈতিক হামলা নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে তৃণমূলের প্রধান ও নেতাদের সাধারণ মানুষের ওপর করা শোষণের বিরুদ্ধে আমজনতার স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ। নতুন সরকারের আমলে সমস্ত চোর ও কাটমানি খোরদের আইনের মুখোমুখি হতেই হবে। অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে এই ঘটনার পেছনে বিজেপির উস্কানি রয়েছে বলে দাবি করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রধানের স্বামীর আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *