গাড়িতে গণধর্ষণ, নির্যাতিতাকে যৌন পেশায় নামানোর হুমকি খোদ কলকাতায়

রাজ্যে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের নামে ফের এক ভয়ঙ্কর অপরাধের ঘটনা সামনে এলো। স্কুলে চাকরি দেওয়ার ইন্টারভিউয়ের টোপ দিয়ে এক তরুণীকে ডেকে এনে চলন্ত গাড়িতে গণধর্ষণ (Gangrape) এবং পরবর্তীতে সেই ঘটনার নগ্ন ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাঁকে জোরপূর্বক যৌন পেশায় নামানোর চেষ্টার অভিযোগে এক মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে কলকাতার ময়দান থানার পুলিশ। ধৃতের নাম তারক গুড়িয়া।
রবিবার ধৃত তারককে কলকাতার মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (CMM) আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাকে আগামী ৩১ মে পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
চাকরির প্রলোভন ও ব্ল্যাকমেলিং-এর নারকীয় ছক
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা তরুণী দীর্ঘদিন ধরেই একটি স্কুলের শিক্ষিকা বা অশিক্ষক কর্মী পদের চাকরির জন্য চেষ্টা করছিলেন। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অভিযুক্ত তারক গুড়িয়া এবং তার সহযোগীরা ওই তরুণীকে ময়দান থানা এলাকায় একটি স্কুলের ইন্টারভিউ রয়েছে বলে ডেকে পাঠায়। তরুণী সেখানে পৌঁছালে তাঁকে একটি গাড়িতে তোলা হয় এবং চলন্ত গাড়ির ভেতরেই তারক ও তার সঙ্গীরা তরুণীকে গণধর্ষণ করে বলে অভিযোগ।
এখানেই শেষ নয়, নারকীয় এই অত্যাচারের পর অপরাধীরা আরও ভয়ঙ্কর রূপ নেয়:
- ভিডিও রেকর্ডিং: ধর্ষণের সময় পুরো ঘটনার ভিডিও মোবাইল ক্যামেরায় রেকর্ড করে রাখা হয়।
- সমাজমাধ্যমে ছড়ানোর হুমকি: তরুণী মুখ খুললে বা পুলিশের কাছে গেলে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
- দেহব্যবসায় বাধ্য করার চেষ্টা: এই ব্ল্যাকমেলিং-এর সুযোগ নিয়ে নির্যাতিতাকে জোরপূর্বক ‘যৌন পেশা’ বা দেহব্যবসায় নামানোর জন্য লাগাতার চাপ ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতে থাকে।
তদন্তে ময়দান থানার পুলিশ
চরম মানসিক অবসাদ ও আতঙ্কের পরিবেশ কাটিয়ে অবশেষে ময়দান থানার দ্বারস্থ হন নির্যাতিতা তরুণী। তাঁর সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র গণধর্ষণ, ভিডিওগ্রাফি করে ব্ল্যাকমেলিং এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের একাধিক কড়া ধারায় মামলা রুজু করে তদন্তে নামে পুলিশ। ঝটিকা অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত তারক গুড়িয়াকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলেও, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বাকি অভিযুক্তরা এখনও পলাতক।
তদন্তকারী আধিকারিকদের অনুমান, এই চক্রটি চাকরি দেওয়ার নামে এর আগেও কোনো তরুণীকে এভাবে ফাঁদে ফেলেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ধৃত তারককে নিজেদের হেফাজতে পেয়ে এই জঘন্য অপরাধে ব্যবহৃত গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা এবং ঘটনার ভিডিওটি উদ্ধার করার পাশাপাশি বাকি অপরাধীদের খোঁজে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছেন ময়দান থানার গোয়েন্দারা।