কলকাতার বুকে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের কারবার, গ্রেফতার সত্যব্রত

কলকাতার বুকে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের কারবার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রুখতে বড়সড় সাফল্য পেল কলকাতা পুলিশের বাঁশদ্রোণী থানা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রবিবার রাতে এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও তাজা কার্তুজ-সহ সত্যব্রত বসু (২৮) নামে এক যুবককে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছেন তদন্তকারীরা। ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে অত্যাধুনিক মানের ২টি সেমি-অটোমেটিক আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৪টি তাজা কার্তুজ।
গোপন সূত্রের খবরে কেল্লাফতে
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁশদ্রোণী থানা এলাকার একটি নির্দিষ্ট জায়গায় এক যুবক আগ্নেয়াস্ত্র হাতবদল বা কোনো বড়সড় অপরাধের উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছে বলে রাতে লালবাজারের গুন্ডাদমন শাখা ও স্থানীয় থানার কাছে খবর আসে। সেই ইনপুট পাওয়ার পরপরই সাদা পোশাকের পুলিশের একটি বিশেষ দল ওই এলাকায় ওত পেতে বসে থাকে। সত্যব্রত বসু সেখানে পৌঁছাতেই সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে ঘিরে ফেলেন পুলিশ আধিকারিকেরা। এরপর তার ব্যাগে তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে একে একে ২টি সেমি-অটোমেটিক পিস্তল এবং চার রাউন্ড তাজা গুলি।
বড় কোনো অপরাধের ছক ছিল কি না, খতিয়ে দেখছে পুলিশ
এত উন্নত মানের সেমি-অটোমেটিক আগ্নেয়াস্ত্র ওই যুবকের কাছে কীভাবে এলো, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশের অনুমান:
- অস্ত্রের উৎস: এই বেআইনি ও নিষিদ্ধ আগ্নেয়াস্ত্রগুলি বিহার বা ভিন রাজ্য থেকে চোরাপথে কলকাতায় আনা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
- অপরাধের ব্লু-প্রিন্ট: কোনো বড়সড় ডাকাতি, তোলাবাজি নাকি কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে সুপারি কিলিং-এর উদ্দেশ্যে এই অস্ত্র মজুত করা হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।
ধৃত সত্যব্রত বসুর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং অস্ত্র আইনের (Arms Act) সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছে বাঁশদ্রোণী থানার পুলিশ। এই চক্রের পেছনে অন্য কোনো বড় অস্ত্র কারবারি বা গ্যাংস্টার জড়িত রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে ধৃতকে আজই আলিপুর আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।