চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে স্থায়ী করার আর্জি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে চিঠি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনুর

চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে স্থায়ী করার আর্জি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে চিঠি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনুর

রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থায় (WBSEDCL) দীর্ঘ দিন ধরে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের স্থায়ীকরণ এবং তাঁদের ন্যায্য অধিকারের দাবিতে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। বিদ্যুৎ দপ্তরের এই বিশাল সংখ্যক চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের সামাজিক নিরাপত্তা ও বেতন বৈষম্য দূর করতে মুখ্যমন্ত্রীকে একটি বিস্তারিত চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। মে মাসে রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর, দলেরই এক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এমন সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক দাবি সম্বলিত চিঠি পাঠানো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।

নামমাত্র বেতনে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার খতিয়ান

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে লেখা চিঠিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার গ্রাউন্ড লেভেলে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মচারীদের করুণ অবস্থার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, দীর্ঘ দিন ধরে প্রায় ১৭৫০ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মী অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে এবং দক্ষতার সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। অথচ, বর্তমান বাজারে দাঁড়িয়ে তাঁরা মাসে মাত্র ১০,৭০০ থেকে ১১,৮০০ টাকা বেতন পান, যা অত্যন্ত নগণ্য। এই সামান্য টাকায় একটি পরিবারের নূন্যতম জীবনধারণ করাও কার্যত আসাম্ভব হয়ে পড়েছে।

শান্তনুর চিঠিতে উলেখিত প্রধান প্রধান আর্জিগুলি

বিদ্যুৎ কর্মীদের দীর্ঘদিনের এই বঞ্চনার অবসান ঘটাতে শান্তনু ঠাকুর তাঁর চিঠিতে মূলত দুটি পর্বের একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ দাবি ও আর্জি জানিয়েছেন:

  • চাকরির স্থায়ীকরণ ও বেতন বৃদ্ধি: দীর্ঘ দিন ধরে কর্মরত এই ১৭৫০ জন কর্মীকে অবিলম্বে স্থায়ী করতে হবে। পাশাপাশি, মাঝখান থেকে থার্ড পার্টি বা তৃতীয় পক্ষের ‘ভেন্ডার প্রথা’ সম্পূর্ণ বাতিল করে কর্মীদের সরাসরি রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার অধীনে আনতে হবে। কর্মীদের মাসিক বেতন বৃদ্ধি করে ২৬,০০০ থেকে ৩৯,০০০ টাকা করার দাবিও তুলেছেন তিনি।
  • সামাজিক ও আইনি সুরক্ষা: চুক্তিভিত্তিক হওয়ার কারণে এই কর্মীরা কোনো রকম সরকারি সুযোগ-সুবিধা পান না। তাই শান্তনুর আর্জি, এই কর্মীদের দ্রুত স্বাস্থ্য বীমা বা স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতায় আনতে হবে। এর সাথে সাপ্তাহিক ছুটি, প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF) এবং ইএসআই (ESI)-এর সুবিধা সুনিশ্চিত করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে, সংস্থায় কর্মরত মহিলা কর্মীরা যাতে নিয়ম মেনে বেতন-সহ মাতৃত্বকালীন ছুটি (Maternity Leave) পান, সেই মানবিক দাবিও চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী।

নবান্ন সূত্রে খবর, বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার এই চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই চিঠির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই অতীতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন, ফলে এই শ্রমিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে রাজ্য সরকার আগামী দিনে কোনো বড়সড় নীতিগত সিদ্ধান্ত বা বেতন কাঠামোর সংস্কার করে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন রাজ্যের ১৭৫০ জন বিদ্যুৎ কর্মী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *