‘বাংলা বুলডোজারের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না’, রাজ্যে উচ্ছেদ অভিযানের তীব্র বিরোধিতা করে কড়া আক্রমণ মমতার

মে মাসে রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর থেকেই বিভিন্ন বেআইনি নির্মাণ ও হকার উচ্ছেদে নজিরবিহীনভাবে ‘বুলডোজার’ ব্যবহারের ঘটনা সামনে আসছে। হাওড়া স্টেশন থেকে শুরু করে চিংড়িঘাটা—একের পর এক এলাকায় প্রশাসনের এই কড়া অ্যাকশনের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি সুর চড়ালেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে এই নতুন প্রশাসনিক ট্রেন্ডকে ‘বুলডোজার-রাজ’ বলে আখ্যা দিয়ে নতুন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক ঔদ্ধত্যের মূল্য দিচ্ছে গরিব মানুষ
কালীঘাটে দলের এক অভ্যন্তরীণ বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উচ্ছেদ হওয়া হকার এবং সাধারণ নিম্নবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট বার্তা দেন। রাজ্য প্রশাসনের এই অতি-সক্রিয়তার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন:
“মানুষের ঘরবাড়ি থেকে শুরু করে গরিব হকারদের রুটি-রুজির দোকানপাট—সব কিছু যেভাবে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা অত্যন্ত নিন্দাজনক। ক্ষমতার এই নতুন রাজনৈতিক ঔদ্ধত্যের চড়া মূল্য আজ বাংলার সাধারণ গরিব মানুষকে দিতে হচ্ছে। আমরা পরিষ্কার জানিয়ে দিতে চাই, বাংলা কোনোদিনও এই বুলডোজারের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।”
উত্তরপ্রদেশের মডেল বাংলায় চালানোর চেষ্টা, সরব বিরোধীরাও
তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশ বা মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলিতে যেভাবে বুলডোজার সংস্কৃতি চালানো হয়, বাংলায় নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই সেই একই ‘দমনমূলক’ মডেল কার্যকর করার চেষ্টা করছে। আকস্মিকভাবে কোনো রকম পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবস্থার সুযোগ না দিয়ে এভাবে গরিব মানুষের জীবন-জীবিকায় আঘাত হানার ঘটনাকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে জোড়া-ফুল শিবির।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে রাজ্যজুড়ে চলা এই পরিকাঠামো সংস্কার ও জবরদখল মুক্ত করার অভিযানকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ চরম তুঙ্গে। একদিকে নতুন সরকার যেখানে আইনি জট ও বেআইনি দখলদারি হঠাতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে অনড়, ঠিক অন্যদিকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কড়া প্রতিরোধ বার্তা আগামী দিনে বাংলার হকার রাজনীতি ও উচ্ছেদ আন্দোলনকে যে আরও বড়সড় সংঘাতের দিকে নিয়ে যাবে, তা বলাই বাহুল্য।