তৃণমূলের পতন ঈশ্বরের বিচার, দাবি বৈশাখীর

তৃণমূলের পতন ঈশ্বরের বিচার, দাবি বৈশাখীর

‘আমার মুখে অ্যাসিড ছোঁড়া আর মেয়েকে খুনের ব্লু-প্রিন্ট করেছিল তৃণমূলেরই নেতা’, এবার নিজের দলের বিরুদ্ধেই বিস্ফোরক বৈশাখী

রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর থেকেই তৃণমূলের দাপুটে নেতাদের বিরুদ্ধে লাগাতার তোপ দেগে চলেছেন মিল্লি আল আমিন কলেজের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষা বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবার আর কেবল ফিরহাদ হাকিম বা দলের অন্য নেতাদের অহংকার নিয়ে কটাক্ষ নয়, সরাসরি তৃণমূলের অন্দরের এক ভয়ঙ্কর ও শিউরে ওঠার মতো অপরাধমূলক চক্রান্তের পর্দাফাঁস করলেন তিনি। ভোটের কিছুদিন আগে নাটকীয়ভাবে তৃণমূলে যোগ দিলেও প্রচার ও সাংগঠনিক কাজে সম্পূর্ণ ‘নিষ্ক্রিয়’ থাকা বৈশাখী এবার নিজের দলেরই এক প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে তাঁর পরিবারকে শেষ করে দেওয়ার চক্রান্তের মারাত্মক অভিযোগ তুললেন। একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তাঁর এই বিস্ফোরক দাবি রাজ্য রাজনীতিতে এক লহমায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

টাকা ছড়িয়ে মেয়েকে খুনের সুপারি!

টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে বিস্ফোরক বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত আবেগঘন ও ক্ষুব্ধ গলায় জানান, তৃণমূলের দম্ভ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার কোন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল, তা তিনি নিজের জীবন দিয়ে উপলব্ধি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, দলেরই এক শীর্ষ স্তরের নেতার নির্দেশে তাঁর নাবালিকা মেয়েকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার অর্থাৎ খুনের সুপারি দেওয়া হয়েছিল। বৈশাখীর দাবি:

“তৃণমূলের দম্ভই তাদের এই হারের মূল কারণ। দলের ভেতরের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি আমার একমাত্র মেয়েকে খুনের সম্পূর্ণ পরিকল্পনা করেছিলেন। এর জন্য মোটা অঙ্কের টাকাও ছড়ানো হয়েছিল। একজন মায়ের কাছে এর চেয়ে বড় নৃশংসতা আর কিছু হতে পারে না।”

মুখে অ্যাসিড ছোঁড়ার ভয়ঙ্কর চক্রান্ত

মেয়ের ওপর হামলার পাশাপাশি বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের ওপরও যাতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা যায়, তার জন্য এক পৈশাচিক ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হয়েছিল বলে তাঁর অভিযোগ। সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁর রূপ ও সামাজিক পরিচিতি নষ্ট করে দিতে তাঁর মুখে মারাত্মক অ্যাসিড ছোঁড়ার (Acid Attack) ছক কষেছিল তৃণমূলেরই ওই চক্র। বৈশাখী জানান, এই সমস্ত ভয়ঙ্কর চক্রান্তের কথা তিনি জানতে পারার পরেই মানসিকভাবে দল থেকে সম্পূর্ণ দূরত্ব বজায় রাখতেন এবং ভোটের আগে দলে যোগ দিলেও কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেননি।

তৃণমূলের পতনই ঈশ্বরের বিচার, দাবি বৈশাখীর

কাদের নির্দেশে এই সুপারি কিলার নিয়োগ বা অ্যাসিড হামলার ছক কষা হয়েছিল, সাক্ষাৎকারে সেই নেতার নাম সরাসরি খোলসা না করলেও বৈশাখীর তিরের নিশানা যে কলকাতার পুর-প্রশাসন ও তৃণমূলের শীর্ষ গুন্ডাবাহিনীর দিকেই, তা বুঝতে রাজনৈতিক মহলের অসুবিধা হয়নি। বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফ কথা, যে দলের নেতারা একজন মহিলার মুখে অ্যাসিড মারার বা তাঁর সন্তানকে খুনের পরিকল্পনা করতে পারে, তাদের বাংলায় ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই। মে মাসের নির্বাচনে মানুষ ব্যালট বক্সে যে রায় দিয়েছেন, তা আসলে এই সমস্ত পৈশাচিক অপরাধের বিরুদ্ধে ঈশ্বরের সুনিশ্চিত বিচার।

তৃণমূলের অন্দরে থেকে খোদ দলেরই শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এমন ভয়ঙ্কর ও ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ এর আগে বাংলার রাজনীতিতে কখনও ওঠেনি। বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিস্ফোরক ইন্টারভিউ সামনে আসার পর একদিকে যেমন তৃণমূলের অন্দরে চরম অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, ঠিক অন্যদিকে নতুন সরকারের জমানায় এই ঘটনার উচ্চপর্যায়ের কোনো পুলিশি বা আইনি তদন্ত শুরু হয় কি না, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *