নয়া বিধি নিয়ে অস্থিরতা, মর্যাদা রক্ষার আর্জি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে চিঠি অধীরের

নয়া বিধি নিয়ে অস্থিরতা, মর্যাদা রক্ষার আর্জি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে চিঠি অধীরের

কোরবানি ইদের প্রাক্কালে পশ্চিমবঙ্গে গবাদি পশু জবাই এবং মাংস বিক্রির ওপর রাজ্য সরকারের জারি করা নতুন নির্দেশিকা বা বিধিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হলো। নতুন এই সরকারি বিধিনিষেধের কারণে রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে জানিয়ে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। মে মাসে রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর, রাজ্যের বর্তমান জ্বলন্ত সামাজিক ও ধর্মীয় ইস্যু নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদের এই চিঠি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদের উদাহরণ টেনে উদ্বেগ প্রকাশ

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে লেখা চিঠিতে অধীর চৌধুরী নিজের জেলা তথা রাজ্যের অন্যতম বৃহত্তম সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা মুর্শিদাবাদের বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, ইদের মতো একটি পবিত্র উৎসবের ঠিক মুখে গবাদি পশু পরিবহন, জবাই এবং মাংস বিক্রির ওপর সরকারের এই আচমকা কড়াকড়ি ও নতুন নিয়ম সাধারণ মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করছে। গ্রামীণ ও শহর এলাকায় এক ধরনের আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা উৎসবের মরসুমে কোনোভাবেই কাম্য নয়।

চিঠিতে অধীর চৌধুরীর প্রধান দাবি ও বার্তা

রাজ্যের সর্বদলীয় সম্প্রীতি ও নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে অধীর চৌধুরী তাঁর চিঠিতে মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন:

  • ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের অধিকার: চিঠিতে প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ স্পষ্ট লিখেছেন যে, ‘পশ্চিমবঙ্গে প্রত্যেক সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিনীতি স্বাধীনভাবে পালন করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সেই অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।’
  • উস্কানি ও অস্থিরতা বন্ধের আর্জি: উৎসবের সময়ে যাতে কোনো ধর্মীয় সুড়সুড়ি বা প্রশাসনিক অতি-সক্রিয়তার কারণে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে নজর দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। বিধি আরোপের নামে সাধারণ ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের যাতে হেনস্থা না করা হয়, সেই দাবিও তুলেছেন অধীর বাবু।

নবান্ন সূত্রে খবর, নতুন সরকারের পক্ষ থেকে এই বিধিকে মূলত ‘বেআইনি পশুপাচার রোধ’ এবং ‘পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার’ একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দাবি করা হলেও, ইদের আগে অধীর চৌধুরীর এই চিঠি প্রশাসনের ওপর এক ধরনের রাজনৈতিক চাপ তৈরি করল। রাজ্যের এই স্পর্শকাতর সামাজিক আবহে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই চিঠির জবাবে বা ইদের ঠিক আগে কোনো রকম শিথিলতা বা বিকল্প ব্যবস্থার কথা ঘোষণা করেন কি না, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *