ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক সিদ্ধান্তেই বিশ্ববাজারে আগুন, তেলের নজিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘর্ষবিরতি চললেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) দিয়ে পণ্যবাহী ও তেলবাহী জাহাজ যাতায়াতে অনিশ্চয়তা এবং আতঙ্ক এখনও পুরোপুরি কাটেনি। এই চরম উত্তেজনার মাঝেই এবার বিশ্ব অর্থনীতির ওপর গোঁদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে উঠেছে আমেরিকার ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারের একটি নয়া ও কঠোর সিদ্ধান্ত। পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে রাশিয়ার অশোধিত তেল (Crude Oil) বিক্রির ওপর এতদিন ওয়াশিংটন সাময়িকভাবে যে ছাড় বা শিথিলতা বজায় রেখেছিল, মার্কিন প্রশাসন এবার তা পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নিল। আমেরিকার এই কড়া পদক্ষেপের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা এক মারাত্মক ধাক্কা খেতে চলেছে, যার জেরে তেলের দাম দ্রুত ও আকাশছোঁয়া বৃদ্ধি পাবে বলে একপ্রকার নিশ্চিত তথ্যাভিজ্ঞ মহল।
ট্রাম্প প্রশাসনের কড়াকড়িতে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধাক্কা
আন্তর্জাতিক তেল বাজারের বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প সরকার রাশিয়ার ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা ও ছাড় প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের দৈনিক সরবরাহে এক মস্ত বড় ঘাটতি দেখা দেবে। হরমুজ প্রণালীতে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ইতিমধ্যেই জাহাজ চলাচলের বীমা খরচ এবং পরিবহণ ব্যয় অনেকটাই বেড়ে রয়েছে। তার ওপর রাশিয়ার তেল বাজারের ওপর আমেরিকার এই নতুন কোপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সরবরাহ ও চাহিদার এই বিশাল ফারাকের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের ব্যারেল প্রতি দাম নজিরবিহীনভাবে বাড়তে শুরু করবে।
ভারতীয় অর্থনীতি ও আমজনতার পকেটে টান পড়ার আশঙ্কা
রাশিয়ার সস্তা তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্তের সরাসরি এবং মারাত্মক প্রভাব পড়তে চলেছে ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলির ওপর। ভারত তার প্রয়োজনের সিংহভাগ অশোধিত তেলই বিদেশ থেকে আমদানি করে, যার মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেলে ভারতের তেল আমদানির খরচ বা ‘ইমপোর্ট বিল’ এক ধাক্কায় অনেক বেড়ে যাবে। এর ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রোল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের দাম নতুন করে বাড়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়লে তার চেইন রিঅ্যাকশন হিসেবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র থেকে শুরু করে শাকসবজি ও পরিবহণ খরচ— সব কিছুই আমজনতার নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। আমেরিকার এই একটি সিদ্ধান্ত জুনের শুরুতেই বিশ্ব বাজারে বড়সড় অর্থনৈতিক মন্দা বা মুদ্রাস্ফীতি ডেকে আনে কি না, এখন সেটাই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়।