কোটি কোটি ভক্তের চোখে জল, আশঙ্কাজনক অসুস্থতার জেরে মাঝরাতে আচমকা বন্ধ প্রেমানন্দ মহারাজের বিখ্যাত পদযাত্রা!

বৃন্দাবনের প্রখ্যাত সন্ত এবং রাধারমন চরণ অনুরাগী শ্রী প্রেমানন্দ মহারাজকে নিয়ে এক গভীর উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে দেশ-বিদেশের কোটি কোটি ভক্তের মনে। ভক্তদের মাঝে অত্যন্ত জনপ্রিয় মহারাজের প্রতিদিনের রাতের চিরাচরিত পদযাত্রা এবং গভীর রাতের বিশেষ ‘দর্শন’ কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আচমকা এই সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশ্যে আসতেই আধ্যাত্মিক নগরী বৃন্দাবন থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া— সর্বত্র ভক্তকুলের মধ্যে তুমুল শোরগোল পড়ে গেছে। প্রিয় গুরুজিকে এভাবে মাঝরাতে আর দর্শন করা যাবে না, এই কথা ভেবেই আবেগপ্রবণ হয়ে কাঁদছেন বহু মানুষ।
চিকিৎসকদের কড়া পরামর্শেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত
শ্রী কৃষ্ণ শরণম আশ্রমের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করে এই জরুরি সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। আশ্রম কর্তৃপক্ষের তরফে বলা হয়েছে, অনিবার্য কিছু কারণ এবং মূলত মহারাজের বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই এই কঠিন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। চিকিৎসকদের কড়া নির্দেশিকা ও পরামর্শ মেনে এখন থেকে তাঁর রাতের ওই পদযাত্রা সম্পূর্ণ স্থগিত থাকবে।
উল্লেখ্য, প্রতি রাতে আশ্রম থেকে বের হয়ে ভক্তদের দর্শন দিতেন এবং তাঁদের সঙ্গে আধ্যাত্মিক আলোচনা ও সৎসঙ্গ করতেন প্রেমানন্দ মহারাজ। শীত, গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষা— কোনো প্রতিকূল আবহাওয়াই তাঁর এই নিয়মে এতদিন বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি। মধ্যরাতের সেই পদযাত্রায় অংশ নিতে এবং মহারাজের একঝলক দর্শন পেতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন বৃন্দাবনে ভিড় জমাতেন।
দুটি কিডনিই বিকল, উপচে পড়া ভিড়ে বাড়ছিল ধকল
আশ্রমের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানাচ্ছে, কোনো সাধারণ অসুস্থতা নয়, দীর্ঘদিন ধরেই প্রেমানন্দ মহারাজের দুটি কিডনিই সম্পূর্ণ বিকল। তীব্র শারীরিক অসুস্থতা এবং নিয়মিত কিডনির ডায়ালিসিস চলা সত্ত্বেও তিনি এতদিন আধ্যাত্মিক টানে ভক্তদের দর্শন দেওয়া এক দিনের জন্যও বন্ধ করেননি। কিন্তু সম্প্রতি দেশজুড়ে তাঁর জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া হওয়ায় ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে তাঁর শরীরের ওপর ধকল অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়ে গিয়েছিল। একই সাথে এই বিপুল জনসমাগমের মধ্যে তাঁর শারীরিক সুরক্ষার স্বার্থেই চিকিৎসকেরা তাঁকে এবার পূর্ণ বিশ্রামের কড়া পরামর্শ দিয়েছেন।
হঠাৎ এই ঐতিহ্যবাহী কর্মসূচি বন্ধ হওয়ায় ভক্তদের একাংশ যেমন চরম হতাশ ও মর্মাহত, তেমনই অন্য অংশ মহারাজের দ্রুত আরোগ্য এবং সুস্বাস্থ্যের জন্য ঘরের কোণে ও মন্দিরে মন্দিরে প্রার্থনা শুরু করেছেন। আশ্রমের পক্ষ থেকে সমস্ত ভক্তদের এই পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরার এবং মহারাজের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিকে সবার আগে অগ্রাধিকার দেওয়ার জোরালো অনুরোধ জানানো হয়েছে।