এবার তৃণমূলকে বিদায় জানিয়ে শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ মণিরুল!

এবার তৃণমূলকে বিদায় জানিয়ে শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ মণিরুল!

রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার রাজনীতিতে এক বড়সড় ওলটপালট ঘটে গেল। তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতা হারানোর পরপরই ফের একবার ভোলবদল করলেন ফরাক্কার প্রাক্তন বিধায়ক মণিরুল ইসলাম। এবার রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করে ঘাসফুল শিবিরের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করলেন তিনি। দলে যোগ্য সম্মান না পাওয়ার অভিযোগ তুলে রবিবার সন্ধ্যায় তাঁর এই দলত্যাগের সিদ্ধান্ত ফরাক্কার রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চার জন্ম দিয়েছে।

টিকিট বিতর্ক ও মমতার সেই হুঁশিয়ারি

মণিরুল ইসলামের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দল তাঁকে টিকিট না দেওয়ায় প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন এই প্রাক্তন বিধায়ক। এমনকি দললাইনের বাইরে গিয়ে নির্দল প্রার্থী হিসেবে ভোটে লড়ার ঘোষণাও করে বসেন। তবে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া হুঁশিয়ারি ও ধমকের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত তিনি পিছু হঠতে বাধ্য হন। সেই সময় নিজের অবস্থান বদলে নিজেকে মমতার ‘একনিষ্ঠ সৈনিক’ দাবি করে দলেই থেকে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর আর সময় নষ্ট না করে দল ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন।

অভিষেকের সমালোচনা ও বিজেপির প্রতি নরম সুর

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মণিরুলের দলত্যাগের ইঙ্গিত গত কয়েকদিন ধরেই স্পষ্ট হচ্ছিল। ফল প্রকাশের পর তিনি সরাসরি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংগঠনিক ব্যর্থতার কড়া সমালোচনা করেন। এখানেই শেষ নয়, ফরাক্কার পরাজিত বিজেপি প্রার্থী সুনীল চৌধুরীর সমর্থনেও মুখ খোলেন তিনি। মণিরুল প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন যে, জয়ী কংগ্রেস প্রার্থী মাহতাব শেখ নন, বরং সুনীল চৌধুরীই ফরাক্কার জন্য প্রকৃত যোগ্য বিধায়ক হতেন।

শুভেন্দুকে ‘যোগ্য মুখ্যমন্ত্রী’ তকমা ও দলবদলুর নয়া সমীকরণ

রবিবার সন্ধ্যায় দলত্যাগের পর শুভেন্দু অধিকারীকে ‘যোগ্য মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবে অভিহিত করে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন মণিরুল। সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ফরাক্কার এই প্রাক্তন বিধায়ক বলেন, “সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ বিজেপি থেকে কিছুটা দূরে থাকছে। তাঁরা এগিয়ে গেলেই বিজেপিও তাঁদের ভালোবাসবে।”

মণিরুলের এই আকস্মিক দলত্যাগ নিয়ে মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে সীমান্ত লাগোয়া এই জেলার ভোট-পরবর্তী রাজনীতিতে মণিরুল ইসলামের এই নতুন পদক্ষেপ এবং বিজেপির প্রতি এই নরম সুর আগামী দিনে কী নতুন সমীকরণ তৈরি করে, এখন সেদিকেই নজর রাখছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *