ছাত্রীদের শ্লীলতাহানি ও নির্যাতনের অভিযোগ খোদ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে, রণক্ষেত্র স্কুল চত্বর!

মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর মহকুমার সূতি থানা এলাকায় এক সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের হস্টেলে থাকা ছাত্রীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির মতো অত্যন্ত গুরুতর ও স্পর্শকাতর অভিযোগ উঠল খোদ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। সূতির ছাপঘাটি কেডি হাইস্কুলের এই ন্যক্কারজনক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার দুপুরে স্কুল চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ও গণবিক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সূতি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
বাথরুমে ঢুকে হেনস্তা ও প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ
স্কুল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাপঘাটি কেডি হাইস্কুলের হস্টেলে থাকা ছাত্রীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাচ্ছিলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক কৌশিক দাস। সোমবার আচমকা তিনি হস্টেলে ঢুকে ছাত্রীদের সঙ্গে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অশালীন আচরণ করেন বলে অভিযোগ। এমনকি ছাত্রীদের দাবি, হস্টেলের বাথরুমে ঢুকেও তাদের হেনস্তা করা হয়। নির্যাতিতা ছাত্রীরা আরও অভিযোগ করেছে যে, হস্টেলে নজরদারির জন্য থাকা সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরাগুলোর সিংহভাগই ইচ্ছাকৃতভাবে অচল করে রাখা হয়েছে যাতে এই সমস্ত কুকীর্তির কোনো প্রমাণ না থাকে। এর পাশাপাশি হস্টেলের খাবারের মানও অত্যন্ত নিম্নমানের এবং তা মুখে তোলার অযোগ্য বলে ছাত্রীরা সরব হয়েছে।
অভিযোগ জানাজানি ও রাজনৈতিক উত্তেজনা
সোমবার এই ঘটনা জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়েই দলবল নিয়ে স্কুল চত্বরে হাজির হন স্থানীয় বিজেপি নেতা মহাবীর ঘোষ। তিনি সরাসরি অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের ঘরে গিয়ে এই জঘন্য আচরণের জবাবদিহি চান এবং তাঁর উপযুক্ত শাস্তির দাবি তোলেন। উত্তেজনা ক্রমশ বাড়তে থাকায় খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পরে সূতি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করে।
তদন্তে প্রশাসন ও পুলিশ
এই বিষয়ে জঙ্গিপুরের মহকুমা স্কুল পরিদর্শক (মাধ্যমিক) সন্দীপ কোঁড়া জানান, স্কুলে বর্তমানে গ্রীষ্মকালীন ছুটি চলছে এবং হস্টেল বিভাগটি সরাসরি তাঁর এক্তিয়ারে না থাকলেও (এটি সর্ব শিক্ষা মিশনের অধীনে পরিচালিত), পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রধান শিক্ষককে অবিলম্বে তাঁর অফিসে এসে দেখা করার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, পুলিশ ছাত্রীদের বয়ান ও লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও পকসো (POCSO) আইনের প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। সূতি থানার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক কৌশিক দাসকে ইতিপূর্বেই থানায় আটকে রেখে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।