‘তৎকাল বিজেপি’ বলে কিছু নেই, কাটমানি-সিন্ডিকেট রুখতে অ্যাকশন শুরু: কড়া বার্তা লকেটের!

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর দলবদলু এবং দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে এবার অত্যন্ত কঠোর ও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। রবিবার হাওড়ার পাঁচলায় আয়োজিত একটি দলীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাতারাতি স্বার্থের জন্য দলবদল করা ব্যক্তিদের নতুন সরকারে কোনো স্থান হবে না। একই সঙ্গে রাজ্যে কাটমানি ও সিন্ডিকেট রাজ খতম করতে প্রশাসন যে পুরোদমে কাজ শুরু করে দিয়েছে, সেই বার্তাও এদিন স্পষ্ট করেন তিনি।
‘তৎকাল বিজেপি’-দের কড়া হুঁশিয়ারি
তৃণমূল কংগ্রেস থেকে আসা সুবিধাবাদী নেতাকর্মীদের নিশানা করে লকেট চট্টোপাধ্যায় অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, “আমাদের ‘তৎকাল বিজেপি’ বলে কিছু হয় না। যাঁরা রাতারাতি তৃণমূল থেকে তিলক কেটে, পতাকা নিয়ে, আবির মেখে ও উত্তরীয় পরে চলে এসেছেন, তাঁদের এখানে জায়গা নেই। তাঁরা নিজেদের জায়গায় থাকুন।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, শুধু দলবদল করলেই পার পাওয়া যাবে না; অতীতে অন্যায় বা দুর্নীতি করে থাকলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না এবং সকলের বিরুদ্ধেই আইনি অ্যাকশন শুরু হয়েছে।
বিগত সরকারের সমালোচনা ও আইনশৃঙ্খলার বার্তা
বর্তমান বিরোধী দল তৃণমূলের তীব্র সমালোচনা করে বিজেপি নেত্রী বলেন, “বর্তমানে যাঁরা বিরোধী, তাঁরা শাসক হিসেবে এতদিন চোরেদের স্বাধীনতা দিয়েছিলেন এবং সাধারণ মানুষকে চরম উপেক্ষা করেছিলেন। বাংলার মানুষ ব্যালট বাক্সে তার যোগ্য জবাব দিয়েছে।” তিনি দাবি করেন, নতুন সরকারের আমলে চোর, ডাকাত, মাফিয়া বা মস্তানি করার দিন শেষ। তদন্তের অগ্রগতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি মন্তব্য করেন, “এখন কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে আসছে।” সিন্ডিকেট ও কাটমানির সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোরতম ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে তিনি জানান।
ঘরছাড়াদের ফেরানো ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদল
নির্বাচন পরবর্তী হিংসার চেনা ছক ভেঙে নতুন সরকার এক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে বলে দাবি করেন লকেট। তিনি বলেন, “এই নির্বাচনের পর কারও ওপর রাজনৈতিক আঘাত করা হয়েছে, এটা কেউ বলতে পারবেন না। জোরপূর্বক দখল হওয়া পার্টি অফিসগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে।” এর পাশাপাশি, বিগত জমানায় রাজনৈতিক হিংসার কারণে যাঁরা ঘরছাড়া হয়েছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে তাঁদের সসম্মানে ঘরে ফিরিয়ে আনা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। পাঁচলা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রঞ্জন পালসহ স্থানীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে লকেটের এই বক্তব্য আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক শুদ্ধকরণের এক বড় ইঙ্গিত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।