সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে ব্যাঙ্গাত্মক ‘আরশোলা জনতা পার্টি’, যোগদানে আগ্রহ প্রকাশ মহুয়া-কীর্তির!

ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র— এবং এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘আলস্য’। এই অদ্ভুত ও অভিনব ভাবনাকে সামনে রেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় আত্মপ্রকাশ করেছে ‘ককরোচ বা আরশোলা জনতা পার্টি’ (CJP)। এটি কোনো মূলধারার রাজনৈতিক দল নয়, বরং বর্তমান শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে এক তীব্র ব্যাঙ্গাত্মক ও শ্লেষাত্মক মঞ্চ। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মামলায় ‘আরশোলা’ সংক্রান্ত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছিল, তারই রেশ ধরে এই প্রতীকী দলটির জন্ম। মাত্র দু’দিনেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই মঞ্চে যোগ দিয়েছেন ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ।
মহুয়া ও কীর্তি আজাদের তীর্যক টিপ্পনি
এই অভিনব ট্রেন্ডে শামিল হতে দেখা গেছে তৃণমূল কংগ্রেসের তারকা সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে সিজেপি (CJP)-তে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন মহুয়া মৈত্র। নিজের চেনা ভঙ্গিতে তীর্যক টিপ্পনি কেটে তিনি লেখেন, “একটি দেশবিরোধী দলের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও আমি সিজেপিতে যোগ দিতে চাই।” পালটা জবাবে আরশোলা জনতা পার্টির পক্ষ থেকে লেখা হয়, “যারা ভোট চুরি ও ধর্মীয় উস্কানি দেয়, তারাই আসল দেশবিরোধী। আপনি গণতন্ত্রের সৈনিক। আপনাকে সিজেপিতে স্বাগত।” অন্যদিকে, দলে যোগ দেওয়ার যোগ্যতা জানতে চেয়ে পোস্ট করেন প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা তৃণমূল নেতা কীর্তি আজাদ। তাঁকে স্বাগত জানিয়ে সিজেপি লেখে, “১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ জয় দলে যোগ দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।” এছাড়া সমাজকর্মী অঞ্জলি ভরদ্বাজ এবং প্রাক্তন আমলা আশিস যোশীও এই তালিকায় রয়েছেন।
নেপথ্যের কারিগর ও অদ্ভুত ইস্তাহার
এই ব্যাঙ্গাত্মক দল গঠনের ভাবনার নেপথ্যে রয়েছেন অভিজিৎ দীপকে নামে এক যুবক, যিনি ২০২০ সালের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের সময় আম আদমি পার্টির (AAP) নির্বাচনী কৌশলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সিজেপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বর্তমান শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর যারা চরম হতাশ, তাদের ক্ষোভকে ব্যঙ্গের মাধ্যমে তুলে ধরতেই এই মঞ্চ।
দলে যোগদানের জন্য সিজেপির পক্ষ থেকে ৪টি অদ্ভুত শর্ত দেওয়া হয়েছে। তাদের মতে— বেকার, অলস, সারাদিন অনলাইনে থাকা এবং কর্মস্থলে প্রতিবাদী মানসিকতার ব্যক্তিরাই এই দলে যোগ দেওয়ার যোগ্য। ইতিমধ্যেই তারা একটি ৫ দফা অ্যাজেন্ডা সম্বলিত ইস্তাহারও প্রকাশ করেছে। ডিজিটাল দুনিয়ায় এই ‘আরশোলা জনতা পার্টি’র জনপ্রিয়তা প্রমাণ করছে যে, গুরুগম্ভীর রাজনৈতিক প্রতিবাদের চেয়েও এই মুহূর্তে মানুষ সমাজমাধ্যমে রসাত্মক ও ব্যাঙ্গাত্মক সমালোচনাকেই বেশি আপন করে নিচ্ছেন।