ডায়মন্ডহারবার পুরসভায় খড়কুটোর মতো উড়ল ঘাসফুল, সবকটি ওয়ার্ডেই জয়ী বিজেপি!

রাজ্যজুড়ে চলা রাজনৈতিক পরিবর্তনের হাওয়ায় ডায়মন্ডহারবার বিধানসভা কেন্দ্রটি তৃণমূল কংগ্রেস কোনোমতে ধরে রাখতে পারলেও, বড়সড় বিপর্যয় ঘটে গেছে ডায়মন্ডহারবার পুরসভা এলাকায়। বন্দর শহরের ১৬টি ওয়ার্ডের সবকটিতেই কার্যত পর্যুদস্ত হয়েছে শাসক দল। পুরসভার মোট ৩৮টি বুথের মধ্যে মাত্র ৫টি বুথে লিড পেয়ে কোনোমতে সান্ত্বনা পুরস্কার পেয়েছে অভিষেকের টিম। সামগ্রিকভাবে পুরসভা এলাকা থেকে বিজেপি প্রার্থী প্রায় ৬ হাজার ভোটের এক বিশাল লিড পেয়ে রেকর্ড গড়েছেন, যা আগামী দিনে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বুথভিত্তিক ফলাফল ও সান্ত্বনা পুরস্কার
পুরসভার ২২০ নম্বর বুথ থেকে শুরু করে ২৫৭ নম্বর বুথ পর্যন্ত বিস্তৃত সীমানার মধ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডেই কমবেশি ভোটে পিছিয়ে রয়েছে তৃণমূল। যে ৫টি বুথে তারা কোনোমতে লিড ধরে রাখতে পেরেছে, সেগুলি হলো— ২২৯, ২৩০, ২৫২, ২৫৪ এবং ২৫৬ নম্বর বুথ। এর মধ্যে ২৫৪ নম্বর বুথে তৃণমূলের পান্নালাল হালদার ৮৯২টি ভোট পেয়েছেন এবং বিজেপির দীপক হালদার পেয়েছেন মাত্র ২২টি ভোট। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই নির্দিষ্ট বুথটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত হওয়ায় এখানে একচেটিয়া ভোট পেয়েছে শাসক দল। এছাড়া ২৫৩ নম্বর বুথে দুই পক্ষই সমানে-সমানে অর্থাৎ ২০২টি করে ভোট পেয়েছে। বাকি বুথগুলোতে তৃণমূলের লিডের ব্যবধান ছিল অত্যন্ত সামান্য; যেমন ২৫৬ নম্বর বুথে তৃণমূল ৩৯৫টি এবং বিজেপি ৩৮৬টি ভোট পেয়েছে।
পুরনো রেকর্ডের পতন ও আত্মসমীক্ষার চাপ
ডায়মন্ডহারবার পুর এলাকায় তৃণমূলের এই পরাজয় অবশ্য প্রথম নয়। এর আগে ২০১৯ এবং ২০২১ সালের নির্বাচনেও এই শহরে হেরেছিল ঘাসফুল শিবির, তবে সেবার অন্তত কয়েকটি ওয়ার্ডে তাদের লিড ছিল। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পুর এলাকায় লিড পুনরুদ্ধার করলেও, ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে পুরসভা এলাকায় কার্যত ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গেল শাসক দল। কেন একটি ওয়ার্ডেও দল লিড পেল না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তৃণমূলের অন্দরে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও পুর চেয়ারম্যান প্রণব দাস জানিয়েছেন, পুরো ফলাফল এখনও বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হয়নি, তাই সবটা না দেখে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না।
পুরভোটের আগে বিজেপির হুঙ্কার ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই বিপুল জয়ের পর স্বভাবতই চাঙ্গা বিজেপি শিবির। গেরুয়া শিবিরের দাবি, পুরসভার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সঠিক নাগরিক পরিষেবা পাচ্ছিলেন না এবং পুর প্রশাসনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষ ব্যালট বাক্সে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের এই ফলাফলের পর আগামী ছ’-সাৎ মাস বাদে হতে চলা পুরসভা নির্বাচনে এর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। বিধানসভা ভোটের এই ‘গেরুয়া ঝড়’ যদি পুরভোট পর্যন্ত বজায় থাকে, তবে ডায়মন্ডহারবার পুরসভা হাতছাড়া হতে পারে তৃণমূলের। এখন দেখার, এই বিরাট ধাক্কা কাটিয়ে শাসক দল আগামী দিনে ঘুরে দাঁড়াতে পারে কিনা।