ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে বের করা হবে, এবার অলআউট অ্যাকশনের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে বের করা হবে, এবার অলআউট অ্যাকশনের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গ থেকে সমস্ত অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও বহিরাগতদের চিহ্নিত করে রাজ্য ছাড়া করার এক চরম ও চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে এক হাই-প্রোফাইল জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ বা ভোটার তালিকা থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ দেওয়ার প্রথম পর্বের প্রক্রিয়াটি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এবার তাঁদের চিহ্নিত করে সরাসরি দেশ থেকে বহিষ্কার করার চূড়ান্ত সময় এসেছে। একই সাথে বিদায়ী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে দীর্ঘ বছর ধরে আটকে থাকা রাজ্যের আদমশুমারি (Census) প্রক্রিয়া নতুন বিজেপি সরকার পুনরায় চালু করেছে বলেও তিনি বড় ঘোষণা করেন।

শনাক্তকরণ শেষ, এবার সরাসরি নির্বাসনের পালা

ক্যামাক স্ট্রিটের ওই জনসভা থেকে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে সুর চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় বলেন:

“আমরা ধাপে ধাপে এগোচ্ছি। প্রথমে আমরা বিজ্ঞানসম্মতভাবে ভোটার তালিকা থেকে অবৈধ অভিবাসীদের নিখুঁতভাবে শনাক্ত করেছি। এরপর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে তাদের নাম সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে। আর এখন এসেছে তাদের এদেশ থেকে সরাসরি নির্বাসনের সময়।”

যদিও এই বহিষ্কার প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত সমাপ্তি নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমার কথা তিনি ভাষণে উল্লেখ করেননি। তবে রাজ্যজুড়ে এই প্রক্রিয়া যে অত্যন্ত কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে, তা তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন।

বেআইনি নির্মাণ ও পুলিশ ফাঁড়ি ভাঙচুর নিয়ে ২০০ শতাংশ পরিণতির হুঁশিয়ারি

অনুপ্রবেশের পাশাপাশি কলকাতা তথা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গজিয়ে ওঠা অবৈধ সিন্ডিকেট ও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধেও প্রশাসন চরম অনমনীয় মনোভাব দেখাবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি রাজ্য সরকারের বেআইনি নির্মাণ ভাঙার উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে কলকাতার তিলজলা এলাকায় যে ব্যাপক আইন-শৃঙ্খলাজনিত অশান্তি ও হিংসার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “আপনারা তিলজলায় প্রশাসনের নেওয়া কড়া ব্যবস্থা ও অ্যাকশন দেখেছেন। তারা এই উচ্ছেদ রুখতে আদালতে গিয়েছে এবং তা করার আইনি অধিকার তাদের রয়েছে। কিন্তু আদালতের বাইরে তাদের কোনো বেআইনি ভবন বা প্রজেক্ট নির্মাণের পরিকল্পনা আমরা আর এই বাংলায় সফল হতে দেব না।”

এর সাথে পার্ক সার্কাস এবং আসানসোলের অশান্তি টেনে তিনি আরও যোগ করেন, “পার্ক সার্কাসে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের ওপর পাথর ছুড়ে তারা যা করেছে, তার জন্য তাদের বড় মূল্য দিতে হবে। এছাড়া আসানসোলে যারা একটি আস্ত পুলিশ ফাঁড়ি ভাঙচুর করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছে, তাদের এর জন্য ২০০ শতাংশ কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। অপরাধ করে পার পাওয়ার দিন শেষ।”

লাউডস্পিকারে রাশ ও প্রতি সোমবার বসবে ‘জনতা দরবার’

রাজ্যের শব্দদূষণ ও নানাবিধ নিয়মের ক্ষেত্রেও যে এক স্পষ্ট প্রশাসনিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে, তা মনে করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সমস্ত ধরনের লাউডস্পিকারের ব্যবহার শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ধর্মীয় স্থানের ভেতরেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত, তা যেন বাইরের সাধারণ মানুষের সমস্যার কারণ না হয়ে দাঁড়ায়। খুব শীঘ্রই এই সংক্রান্ত আরও অনেক বড় কাজ করা হবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শুনতে সল্টলেকের রাজ্য বিজেপি কার্যালয়ে নিজের প্রথম জনঅভিযোগ নিরসন কর্মসূচি ‘জনতা কা দরবার’ বা জনতার দরবারের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, এখন থেকে প্রতি সোমবার প্রশাসনিক ও দলীয়— উভয় স্তরেই এই বিশেষ কর্মসূচিটি নিয়মিতভাবে চালানো হবে। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা আজ দলীয় কার্যালয় থেকে এই ঐতিহাসিক কর্মসূচিটি শুরু করলাম। এটি এমন একটি সরাসরি মাধ্যম, যেখানে রাজ্যের সাধারণ মানুষ কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি আমাদের সামনে এসে নিজেদের অভাব-অভিযোগের কথা বলতে পারবেন ও তৎক্ষণাৎ সুরাহা পাবেন।” এই প্রথম জনতার দরবার কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং নেত্রী শশী অগ্নিহোত্রীও উপস্থিত থেকে সাধারণ মানুষের আর্জি শোনেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *