ইসলামপুর থেকে কৃষ্ণনগর! পাকিস্তানে হঠাৎ কেন ফিরছে দেশভাগের আগের নাম?

পাকিস্তানের লাহোরে কয়েক দশক আগে ইসলামিকরণের সময় বদলে যাওয়া বহু পুরনো হিন্দু, জৈন ও ঔপনিবেশিক আমলের এলাকার নাম আবার ফিরে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে শহরের অন্তত ন’টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, মোড় ও এলাকার নাম তাদের প্রাচীন পরিচয়ে পুনর্বহাল করেছে পাঞ্জাব প্রাদেশিক সরকার। ‘লাহোর হেরিটেজ এরিয়া রিভাইভাল’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটিকে শহরের বহুসাংস্কৃতিক ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধারের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঐতিহাসিক নাম পুনরুদ্ধার ও সামাজিক প্রেক্ষাপট
লাহোরে সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনটি ঘটেছে ‘ইসলামপুরা’ এলাকায়। দেশভাগের আগে এই হিন্দু প্রধান এলাকার নাম ছিল ‘কৃষ্ণনগর’। পরবর্তীতে নাম বদলে ইসলামপুরা রাখা হলেও প্রশাসনের দাবি, এখানকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে কৃষ্ণনগর নামটাই ব্যবহার করে আসছিলেন। একইভাবে ১৯৯২ সালে ভারতে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর লাহোরে একটি প্রাচীন জৈন মন্দির ভেঙে ফেলা হয় এবং এলাকার নাম দেওয়া হয় ‘বাবরি মসজিদ চক’। এবার ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের অংশ হিসেবে সেই নাম পরিবর্তন করে আবার ‘জৈন মন্দির চক’ করা হয়েছে। এছাড়া গত দুই মাসে সন্নতনগর, লক্ষ্মী চক, ধরমপুরা, ডেভিস রোড ও কুইন্স রোডের মতো একাধিক ঐতিহাসিক নাম সরকারি নথিতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় ইতিহাসবিদদের মতে, সরকারি নথিতে নাম বদলানো হলেও বহু বছর ধরে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে পুরনো নামগুলোর প্রচলন বজায় ছিল। ফলে এই প্রশাসনিক পুনরুদ্ধার স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষাকেই বাস্তব রূপ দিয়েছে। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ নিজে এই প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশ একে সমর্থন জানিয়েছে।
এই পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের একটি বহুত্ববাদী ও পরসহিষ্ণু ভাবমূর্তি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকে এটিকে ইতিবাচক সাংস্কৃতিক পুনরুদ্ধার হিসেবে দেখলেও, একটি অংশ এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে অভিযোগ তুলছেন। লাহোরের এই সফল প্রয়োগের পর আগামী দিনে সিন্ধু ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের অন্যান্য ঐতিহাসিক শহরের নামও একইভাবে ফিরতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।