লক্ষ্মীর ভাণ্ডার অতীত, জুনেই দ্বিগুণ টাকা নিয়ে আসছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার!

পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মহিলাদের আর্থিক সহায়তায় এক বড়সড় পরিবর্তনের সূচনা হতে চলেছে আগামী জুন মাস থেকে। নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পৌরোহিত্যে অনুষ্ঠিত রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পূর্বতন সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের পরিধি ও সুবিধা বাড়িয়ে এই নতুন প্রকল্প চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকার। এই পরিবর্তনের ফলে রাজ্যের সাধারণ মহিলাদের মধ্যে নতুন করে উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।
কারা পাবেন এই সুবিধা এবং যোগ্যতার শর্তাবলী
নতুন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার বেশ কিছু কঠোর ও নির্দিষ্ট নিয়মাবলী জারি করেছে। এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। অর্থনৈতিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে পরিবারের বার্ষিক আয় ২.৫ লক্ষ টাকার কম হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর বেশি আয় থাকলে আবেদন সরাসরি বাতিল হয়ে যাবে। এছাড়া সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতি যাচাইয়ের জন্য নিয়ম করা হয়েছে যে, আবেদনকারীর নামে কোনো পাকা বাড়ি, চারচাকা গাড়ি কিংবা ট্রাক্টর থাকা চলবে না। কোনো আবেদনকারী যদি মারা যান কিংবা বাংলাদেশের নাগরিক হন, তবে তিনি কোনোভাবেই এই সুবিধা পাবেন না। তবে পূর্বতন সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধাভোগী প্রবীণ ও যোগ্য মহিলাদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই নতুন প্রকল্পে স্থানান্তরিত হয়ে যাবে।
আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র
যে সমস্ত মহিলাদের নাম ইতিমধ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে নথিভুক্ত রয়েছে, তাঁদের এই নতুন ভাতার জন্য নতুন করে কোনো আবেদন করতে হবে না। তবে যারা একদম নতুনভাবে এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হতে চান, তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টাল চালু করা হচ্ছে, যা রাজ্য সরকার দ্রুত ঘোষণা করবে। আবেদনের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নির্ভুল রাখতে নবান্নের পক্ষ থেকে বেশ কিছু নথি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আবেদনপত্রের সঙ্গে বৈধ রেশন কার্ড, বসবাসের প্রমাণপত্র, আয়ের শংসাপত্র (ইன்கাম সার্টিফিকেট) এবং সক্রিয় মোবাইল নম্বর জমা দিতে হবে। এর পাশাপাশি আবেদনকারীর নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে এবং সেই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার নম্বর লিঙ্ক করা বাধ্যতামূলক। একই সাথে আধার কার্ডের ফটোকপি জমা দেওয়ার পাশাপাশি আধার কার্ডের সঙ্গেও মোবাইল নম্বর যুক্ত থাকতে হবে।
প্রকল্পের প্রভাব ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
এই প্রকল্প চালুর মূল কারণ হলো রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, কারণ এখানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি টাকা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবার যাচাইকরণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত কঠোর করা হচ্ছে। আবেদন জমা পড়ার পর প্রতিটি তথ্য ও নথিপত্র নিবিড়ভাবে স্ক্রুটিনি বা যাচাই করা হবে। সমস্ত শর্ত ও কারিগরি তথ্য সম্পূর্ণ মিলে গেলে তবেই আবেদন মঞ্জুর করা হবে। প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিরা আর্থিক সুবিধা পাবেন, অন্যদিকে তেমনই জালিয়াতি বা অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব হবে।