রাষ্ট্রপতি ভবনে সম্মানিত হচ্ছে বাংলার প্রতিভা, পদ্মশ্রী পাচ্ছেন প্রসেনজিৎ-কুমার বসু সহ ১১ জন

রাষ্ট্রপতি ভবনে সম্মানিত হচ্ছে বাংলার প্রতিভা, পদ্মশ্রী পাচ্ছেন প্রসেনজিৎ-কুমার বসু সহ ১১ জন

আগামী ২৫ মে ভারতের নতুন দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত হতে চলেছে প্রথম নাগরিক অলঙ্করণ অনুষ্ঠান। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ পদ্ম পুরস্কার তুলে দেবেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। এ বছর দেশের মোট ১৩১ জন কৃতি ব্যক্তিত্বকে পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ ও পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হচ্ছে, যার মধ্যে বাংলার ঝুলিতে আসছে ১১টি পদ্মশ্রী পুরস্কার। চলচ্চিত্র জগৎ থেকে শুরু করে চিকিৎসা, সংগীত ও লোকশিল্পের বিভিন্ন ধারার দিকপালরা এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

সংস্কৃতি ও রূপালি পর্দার স্বীকৃতি

এবারের পদ্মশ্রী প্রাপকদের তালিকায় অন্যতম বড় আকর্ষণ বাংলা চলচ্চিত্রের অবিসংবাদিত অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। ৪০০-রও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজেকে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা এই তারকাকে সিনেমাটিক শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান দেওয়া হচ্ছে। তাঁর পাশাপাশি উচ্চাঙ্গ সংগীতের দুনিয়া থেকে সম্মানিত হচ্ছেন প্রখ্যাত তবলা বাদক কুমার বসু, যাঁর ঐতিহ্যবাহী বাজনা এবং অনন্য সৃজনশীলতা তাঁকে ‘সঙ্গীতজ্ঞদের সঙ্গীতজ্ঞ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এছাড়া সুরের জগতের অন্যতম নক্ষত্র, প্রখ্যাত সন্তুর বাদক তরুণ ভট্টাচার্য এবং নাট্য দুনিয়ার কিংবদন্তি নির্দেশক ও অভিনেতা হরি মাধব মুখোপাধ্যায়ও এই অনন্য সম্মানে ভূষিত হচ্ছেন।

সমাজসেবা, চিকিৎসা ও প্রান্তিক শিল্পকলা

তৃণমূল স্তরে কাজের অনন্য নজির গড়ে এবার পদ্মশ্রী পাচ্ছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সরোজ মণ্ডল। তিনি নামমাত্র খরচে সাধারণ মানুষের হার্টের চিকিৎসা নিশ্চিত করেছেন এবং নিজের উপার্জিত পারিশ্রমিক দরিদ্রদের চিকিৎসার জন্য ট্রাস্টে দান করে জনস্বাস্থ্যের একটি মানবিক মডেল তৈরি করেছেন। অন্যদিকে, গ্রামীণ নারীদের স্বনির্ভর করতে কাঁথা সেলাই শিল্পকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যাওয়া বীরভূমের তৃপ্তি মুখোপাধ্যায় এবং মসলিন জামদানি শিল্পের কারিগর জ্যোতিষ দেবনাথের হাতে উঠছে এই পুরস্কার।

এছাড়াও উত্তরবঙ্গের রসায়নের বিশিষ্ট অধ্যাপক মহেন্দ্র নাথ রায়, পরিবেশবিদ ও উদ্ভিদবিজ্ঞানী অধ্যাপক গম্ভীর সিংহ ইয়োনজোন, শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক অশোক কুমার হালদার এবং প্রখ্যাত সাঁওতালি লেখক রবিলাল টুডু নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য দেশের এই চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পেতে চলেছেন।

পুরস্কারের নেপথ্য কারণ ও সমাজচিত্র

কেন্দ্রীয় সরকারের এই পুরস্কার নির্বাচনের ক্ষেত্রে এবারও প্রান্তিক মানুষের উন্নয়ন এবং শিল্পকলার প্রচারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকের নিঃস্বার্থ জনসেবা কিংবা হস্তশিল্পীদের স্বনির্ভর করার প্রয়াসকে জাতীয় স্তরে তুলে ধরার এই ঘটনা গ্রামীণ অর্থনীতি ও প্রতিভাকে আরও উৎসাহিত করবে। একই সাথে, বাংলা সংস্কৃতির ধারক ও বাহকদের এই সম্মাননা তরুণ প্রজন্মকে শিল্প, সাহিত্য ও গবেষণার প্রতি আরও বেশি অনুরাগী করে তুলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *