আমেরিকায় ট্রাম্প প্রশাসনের বড় পদক্ষেপে আইনি স্বস্তি পেলেন আদানি, আসছে ১০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ!

আমেরিকায় ট্রাম্প প্রশাসনের বড় পদক্ষেপে আইনি স্বস্তি পেলেন আদানি, আসছে ১০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ!

আমেরিকায় বড়সড় আইনি স্বস্তি পেলেন ভারতীয় শিল্পপতি গৌতম আদানি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আদানির বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি প্রতারণার অভিযোগ খারিজের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। একই সঙ্গে তাঁর একটি সংস্থার বিরুদ্ধে থাকা ইরান সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগেরও মীমাংসা করা হয়েছে। আদানির বিরুদ্ধে ভারতের বৃহত্তম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমোদন পেতে ২৬৫ মিলিয়ন ডলার ঘুষ দেওয়ার এবং ঋণদাতা ও বিনিয়োগকারীদের কাছে সেই তথ্য গোপন করে ৩ বিলিয়নেরও বেশি ডলার তোলার অভিযোগ ছিল। মার্কিন বিচার বিভাগ আদানি ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে আনা সেই ঘুষকাণ্ডের অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছে।

অভিযোগ প্রত্যাহার ও মেগা বিনিয়োগের সমীকরণ

এই নাটকীয় মোড় বদলের নেপথ্যে রয়েছে এক বিশাল বিনিয়োগের পরিকল্পনা। সম্প্রতি আদানির আইনজীবী, যিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবীও বটে, প্রশাসনকে জানিয়েছিলেন যে গৌতম আদানি আমেরিকায় ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের রোডম্যাপ তৈরি করেছেন। তবে চলমান আইনি জটিলতার কারণে সেই বিনিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে ছিল। এই বার্তার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন নিজেদের অবস্থান বদলে অভিযোগ প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নেয়। আদানি গোষ্ঠী অবশ্য শুরু থেকেই তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত দুর্নীতি ও প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল।

নিষেধাজ্ঞা বিতর্ক ও সম্ভাব্য প্রভাব

ঘুষকাণ্ডের পাশাপাশি ইরান থেকে এলপিজি (LPG) আমদানি সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা ভাঙার অভিযোগও মিটিয়ে ফেলেছে আদানি এন্টারপ্রাইজেস। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অভিযোগ ছিল, দুবাইয়ের একটি ট্রেডিং সংস্থার মাধ্যমে ওমান ও ইরাক থেকে গ্যাস আনা হচ্ছে দাবি করা হলেও, তা মূলত আসছিল ইরান থেকে। এই বিতর্ক মেটাতে আদানি গোষ্ঠী মার্কিন কর্তৃপক্ষকে ২৭৫ মিলিয়ন ডলার দিতে রাজি হয়েছে। প্রায় ৮২ বিলিয়ন ডলারের সম্পত্তির মালিক এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত গৌতম আদানির এই আইনি জট মুক্তি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর ফলে শুধু যে আদানি গোষ্ঠীর ওপর থেকে বড়সড় সংকট কেটে গেল তাই নয়, ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পুঁজির প্রবেশের পথও আরও সুগম হলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *