নিট প্রশ্ন ফাঁসে সিবিআইয়ের দশম গ্রেফতারি, এবার জালে ‘ডাক্তার তৈরির কারখানা’র মালিক মোটেগাঁওকর!

মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় এবার সিবিআইয়ের জালে ধরা পড়লেন মহারাষ্ট্রের খ্যাতনামা কোচিং চেন ‘রেণুকাই কেরিয়ার সেন্টার’ বা আরসিসি (RCC)-র কর্ণধার শিবরাজ রঘুনাথ মোটেগাঁওকর। লাতুরের শিবনগর এলাকার বিলাসবহুল আবাসন থেকে গ্রেফতারের পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাঁকে ৯ দিনের হেফাজতে নিয়েছে। দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা এই নিট কেলেঙ্কারিতে এটি সিবিআইয়ের দশম গ্রেফতারি।
মহারাষ্ট্রের পড়ুয়াদের কাছে ‘ডাক্তার তৈরির কারখানা’ হিসেবে পরিচিত ছিল ‘মোটেগাঁওকর স্যারের ক্লাস’। গত ১৯ বছরে ১৫ হাজারের বেশি ডাক্তার তৈরি করার দাবি করা এই শিক্ষা সাম্রাজ্যের বার্ষিক ফি ছিল ১.২ লক্ষ থেকে ২.৪ লক্ষ টাকা। প্রায় ৮০ হাজার পড়ুয়া যেখানে পড়াশোনা করত, সেই সংস্থার কর্ণধারের বিরুদ্ধেই এখন হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অভিযোগ উঠেছে।
১০ দিন আগেই মোবাইলে এসেছিল প্রশ্নপত্র
তদন্তকারীদের দাবি, মোটেগাঁওকর নিছক একজন শিক্ষক নন, বরং প্রশ্ন ফাঁসের এক সুসংগঠিত সিন্ডিকেটের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। সিবিআই সূত্রে জানা গেছে, ৩ মে পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও মোটেগাঁওকরের মোবাইল ফোনে পরীক্ষার পুরো প্রশ্নপত্রটি পৌঁছে গিয়েছিল ১০ দিন আগে, অর্থাৎ ২৩ এপ্রিল। ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ইতিমধ্যেই তাঁর ফোনটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গোয়েন্দাদের ধারণা, পরীক্ষার আগেই তিনি এই প্রশ্ন ও উত্তর একাধিক ব্যক্তির কাছে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।
যেভাবে পর্দাফাঁস হল এই বিশাল দুর্নীতির
এই কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির সুতো প্রথম ছিঁড়েছিল রাজস্থানের সিকরে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার ঠিক পরেই এক শিক্ষক এনটিএ-র (NTA) কাছে ইমেল করে জানান যে, পরীক্ষার আগের দিন রাতেই তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে কিছু পিডিএফ এসেছিল, যার সঙ্গে আসল প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল রয়েছে। এর পরপরই লাতুরের এক অভিভাবক অভিযোগ করেন যে, আরসিসি-র একটি ‘মক টেস্ট’-এর ৪২টি প্রশ্ন আসল নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক নড়েচড়ে বসে এবং গত ১২ মে সিবিআই গোটা মামলার তদন্তভার নেওয়ার পর পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা করা হয়।
পাঁচ রাজ্যে ছড়িয়ে সিন্ডিকেটের জাল
সিবিআই তদন্তে এই দুর্নীতির পেছনে এক গভীর ও সুসংগঠিত ষড়যন্ত্রের কথা উঠে এসেছে। অভিযোগ, এনটিএ-র প্রশ্ন প্রস্তুতকারক প্যানেলের দুই সদস্যই ছিলেন এই দুর্নীতির মূলে। তাঁদের একজন পুণের উদ্ভিদবিদ্যার শিক্ষিকা মণীষা গুরুনাথ মানধারে এবং অন্যজন লাতুরের অবসরপ্রাপ্ত কেমিস্ট্রি শিক্ষক পি ভি কুলকার্নি, যাঁকে এই চক্রের ‘কিংপিন’ মনে করা হচ্ছে। গোপন কোচিং সেশনের মাধ্যমে তাঁরা আগেভাগেই প্রশ্ন ফাঁস করে দিতেন বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। বর্তমানে মহারাষ্ট্র, রাজস্থান ও দিল্লিসহ দেশের মোট পাঁচটি রাজ্যে এই প্রশ্ন ফাঁস চক্রের জাল ছড়িয়ে থাকার প্রমাণ পেয়েছে সিবিআই।