অসলোর প্রেস মিটে তুলকালাম, মানবাধিকার প্রশ্নে নরওয়েজিয়ান সাংবাদিককে কড়া জবাব ভারতের

অসলোর প্রেস মিটে তুলকালাম, মানবাধিকার প্রশ্নে নরওয়েজিয়ান সাংবাদিককে কড়া জবাব ভারতের

আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের মানবাধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে ভারতীয় কূটনীতিকের তীব্র তোপের মুখে পড়লেন নরওয়ের এক সাংবাদিক। প্রধানমন্ত্রীর নরওয়ে সফরের মাঝে অসলোর একটি হোটেলে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) প্রেস ব্রিফিং চলাকালীন এই বেনজির সংঘাতের ঘটনা ঘটে। ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তোলা নরওয়েজিয়ান সাংবাদিক হিলি লিংকে তীব্র কটাক্ষ করে বিদেশ মন্ত্রকের সচিব (পশ্চিম) সিবি জর্জ জানান, পশ্চিমী দুনিয়া ভারতের বিশালত্ব না বুঝে কিছু ‘অজ্ঞ ও এজেন্ডাভিত্তিক এনজিও-র রিপোর্ট’ পড়ে মন্তব্য করে। এই বাদানুবাদের এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই সাংবাদিক প্রেস মিট ছেড়ে সাময়িক ওয়াকআউটও করেন।

এনজিও-র এজেন্ডা বনাম ভারতের সংবাদমাধ্যমের বৈচিত্র্য

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন সাংবাদিক হিলি লিং ভারতের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে একের পর এক আক্রমণাত্মক প্রশ্ন ছুড়ে দেন। বিন্দুমাত্র ব্যাকফুটে না গিয়ে সিবি জর্জ ভারতের সংবাদমাধ্যমের বিশাল পরিধি তুলে ধরেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, শুধুমাত্র দিল্লিতেই ইংরেজি, হিন্দি ও আঞ্চলিক ভাষায় অন্তত ২০০টি টিভি চ্যানেল রয়েছে এবং প্রতিদিন সন্ধ্যায় দেশে তথ্যের বন্যা বয়ে যায়। ভারতের এই অভ্যন্তরীণ বৈচিত্র্য ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ সম্পর্কে সঠিক ধারণা না রেখেই কিছু নামগোত্রহীন এনজিও-র রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে পশ্চিমী সংবাদমাধ্যমগুলি একতরফা মতামত তৈরি করে বলে তিনি দাবি করেন।

সংবিধান ও অধিকারের পাঠ

উত্তেজনাপূর্ণ এই করমর্দনের মাঝে ভারতীয় কূটনীতিক কার্যত বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার ঠিক পরেই ভারত তার সমস্ত নারীকে ভোটাধিকার দিয়েছিল, যা বহু তথাকথিত উন্নত দেশ অনেক পরে কার্যকর করেছে। ভারতীয় সংবিধানে সকলের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ভোট দিয়ে সরকার পরিবর্তন করার ক্ষমতাই হলো মানবাধিকারের সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

আন্তর্জাতিক চাপ ও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব

এই ঘটনার পেছনে রয়েছে ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স’ নিয়ে দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক বিতর্ক, যেখানে নরওয়ে শীর্ষস্থানে এবং ভারত ১৫৭তম অবস্থানে রয়েছে। এই সূচককে হাতিয়ার করে ওই সাংবাদিক সোশ্যালে সরব হয়েছিলেন, যার জবাবে ভারতীয় দূতাবাস তাঁকে সরাসরি প্রেস ব্রিফিংয়ে আমন্ত্রণ জানায়। তবে এই আন্তর্জাতিক সংঘাতের আঁচ এসে পড়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে দাবি করেছেন, প্রশ্নের মুখোমুখি হতে ভয় পাওয়ার কারণেই আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এই ঘটনাটি বিশ্বমঞ্চে ভারতের নিজস্ব গণতান্ত্রিক আত্মপরিচয় জোরকণ্ঠে তুলে ধরার পাশাপাশি দেশে ও বিদেশে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *