গুঞ্জনের মাঝেই মুখ খুলল ইরান, কেমন আছেন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই!

ইরানের নয়া সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেইয়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া তীব্র জল্পনার অবসান ঘটাতে অবশেষে মুখ খুলেছে তেহরান। দায়িত্ব গ্রহণের পর কিংবা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে একবারের জন্যও তিনি জনসমক্ষে না আসায় তাঁর সুস্থতা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। এই পরিস্থিতিতে ইরানের একটি সরকারি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, সুপ্রিম লিডার বর্তমানে অনেকটাই সুস্থ এবং তাঁর বড় কোনো শারীরিক সমস্যা নেই।
গুজব বনাম বাস্তব
সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়, মোজতবা খামেনেই শারীরিক ও মানসিক উভয় দিক দিয়েই মারাত্মক বিপর্যস্ত। মার্কিন হামলায় তাঁর মুখ ও ঠোঁট এমনভাবে ঝলসে গিয়েছে যে প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন এবং তিনি স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারছেন না। এমনকি হামলায় তাঁর একটি পা কাটা পড়েছে এবং তিনবার অস্ত্রোপচারের পর সেখানে কৃত্রিম পা বা প্রস্থেটিক বসানোর প্রক্রিয়া চলছে বলেও আন্তর্জাতিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। তবে এই সমস্ত দাবিকে শত্রুপক্ষের ছড়ানো ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির সংবাদমাধ্যমের দাবি, মোজতবার হাঁটু ও কানে সামান্য আঘাত রয়েছে যা দ্রুত সেরে উঠছে এবং তাঁর ক্ষতগুলো ইতিমধ্যেই নিরাময় হয়েছে।
আড়ালে থাকার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
কুর্সিতে বসার পর থেকে মোজতবা খামেনেইয়ের জনসমক্ষে না আসা এবং কোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশ না হওয়াকে একটি সুচিন্তিত কৌশলগত সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, চোটগ্রস্ত চেহারা বা দুর্বল কণ্ঠে আমজনতার সামনে হাজির হলে দেশের অভ্যন্তরে নেতৃত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ইরান এড়াতে চায়। শত্রুপক্ষ যাতে তাঁর সঠিক অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা শনাক্ত করতে না পারে, সেজন্যই বর্তমানে অত্যন্ত সীমিত ও বিশেষ কয়েকজন ব্যক্তি ছাড়া সবার জন্য তাঁর সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এই মার্কিন হামলায় মোজতবা খামেনেই প্রাণে বেঁচে গেলেও তাঁর স্ত্রী ও সন্তান নিহত হয়েছেন, যা ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে বড় ধাক্কা। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি গোপন ঘাঁটি থেকে একাধিকবার বার্তা দিয়ে দেশের হাল ধরে রেখেছেন। ইরানের প্রশাসন দেশের সাধারণ মানুষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে আশ্বস্ত করেছে যে, সঠিক সময়েই সুপ্রিম লিডার সবার সামনে উপস্থিত হবেন।