৩২ হাজার শিক্ষকের ভাগ্য নির্ধারণ এখন সুপ্রিম কোর্টে, আগস্টেই ভাগ্যপরীক্ষা

প্রাথমিকে ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বহাল রাখার মামলাটি অবশেষে গ্রহণ করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি শুনানির জন্য মঞ্জুর করে। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, এখনই কারও চাকরি বাতিল করা হচ্ছে না। তবে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যাঁরা শিক্ষা দিচ্ছেন, তাঁদের যোগ্যতা এবং তাঁরা আদৌ শিক্ষক पात्रता পরীক্ষা (টেট) পাশ করেছেন কিনা, তা খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি। আগামী আগস্ট মাসের তৃতীয় সপ্তাহে এই বহুল চর্চিত মামলার পরবর্তী শুনানি হতে পারে।
আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট
এই আইনি জটিলতার সূত্রপাত ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষার ভিত্তিতে ২০১৬ সালে শুরু হওয়া প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে। ২০২৩ সালের মে মাসে কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এই নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে একযোগে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিলের ঐতিহাসিক নির্দেশ দিয়েছিলেন। যদিও তাঁদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েন শেষে ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের রায় খারিজ করে দেয়। দীর্ঘ ৯ বছর চাকরি করার পর হুট করে চাকরি চলে গেলে পরিবারগুলোর ওপর বিপর্যয় নেমে আসবে—এই মানবিক দিক বিবেচনা করে ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বহাল রাখে ডিভিশন বেঞ্চ।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে ওঠার মূল কারণ হলো নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং যোগ্যতার মাপকাঠি নিয়ে তৈরি হওয়া আইনি ধোঁয়াশা। একদিকে পর্ষদ ও শিক্ষকেরা দীর্ঘদিনের চাকরির অধিকার ও মানবিকতার পক্ষে সওয়াল করছেন, অন্যদিকে যোগ্যতার পরীক্ষা সঠিক নিয়ম মেনে হয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। আগস্ট মাসের শুনানির ওপর এখন নির্ভর করছে এই ৩২ হাজার শিক্ষক ও তাঁদের পরিবারের ভবিষ্যৎ। সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা যেমন নির্ভর করছে, তেমনই ভবিষ্যৎ নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার এক নতুন আইনি রূপরেখাও তৈরি হতে পারে।