Breaking: আরজি করকাণ্ডে অবিলম্বে ঘটনাস্থল সিল করার নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে নৃশংস নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় এবার অত্যন্ত বড় এবং নজিরবিহীন নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। ঘটনার জল বহুদূর গড়ানোর পর এবার অকুস্থল ও তার আশেপাশের সমস্ত এলাকা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত করতে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সংস্থাকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আরজি কর মামলার শুনানিতে বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, অবিলম্বে ঘটনাস্থল এবং তার পরিধি পুরোপুরি সিল (Seal) করতে হবে। আদালতের এই নির্দেশের পর আরজি কর কাণ্ডের তদন্তে নতুন করে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

সেমিনার হলের পাশের ঘর ও সন্দীপের পার্সোনাল ওটি নিয়ে বিস্ফোরক দাবি পরিবারের

বর্তমানে আরজি করের যে সেমিনার হলে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছিল, সেটি সিবিআই (CBI)-এর নির্দেশে সিল করে রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ওই সেমিনার হলটিকেই মূল অকুস্থল (Crime Scene) বলে দাবি করলেও, এই তত্ত্ব নিয়ে প্রথম থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিল নির্যাতিতার পরিবার।

এদিন হাইকোর্টে শুনানির সময় মৃতের পরিবারের আইনজীবী বিস্ফোরক দাবি তুলে জানান:

  • পাশের রহস্যময় ঘর: সেমিনার হলের ঠিক পাশেই আরও একটি ঘর রয়েছে, যেখানে ঘটনার রাতে সন্দেহভাজন গতিবিধি ছিল এবং সেখানেও মূল অপরাধের অংশ ঘটে থাকতে পারে। অথচ সেই ঘরটি এখনও খোলা রাখা হয়েছে।
  • সন্দীপ ঘোষের পার্সোনাল ওটি: হাসপাতালের সাত তলায় একটি অপারেশন থিয়েটার (OT Room) রয়েছে, যা কুখ্যাত প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ সম্পূর্ণ নিজের ব্যক্তিগত বা পার্সোনাল কাজে ব্যবহার করতেন। পরিবারের আশঙ্কা, অভয়া কাণ্ডের সেই রাতের মারাত্মক কোনো যোগসূত্র বা তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চক্রান্ত ওই ঘরের সাথে জড়িয়ে থাকতে পারে। কিন্তু রহস্যজনকভাবে সেই গুরুত্বপূর্ণ ঘরটিও এতদিন সিল না করে অবারিত রাখা হয়েছিল।

প্রমাণ লোপাটের আশঙ্কায় আদালতের কড়া হস্তক্ষেপ

পরিবারের এই গুরুতর অভিযোগ শোনার পরেই কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে। যেভাবে প্রাক্তন অধ্যক্ষের ঘরের একাংশ ভাঙার অভিযোগ উঠেছিল এবং একের পর এক তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করার তত্ত্ব সামনে আসছে, তাতে আর কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয় আদালত।

বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চ অবিলম্বে নির্দেশ দিয়েছে, সেমিনার হলের পাশের ঘর এবং সাত তলার ওই বিতর্কিত ওটি রুমসহ সমস্ত সন্দেহভাজন এলাকাকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সিল করতে হবে। তদন্তের স্বার্থে সিবিআই বা ফরেনসিক দল ছাড়া সেখানে এখন থেকে আর কারও প্রবেশাধিকার থাকবে না। নতুন সরকারের রাজত্বে আরজি কর কাণ্ডের এই আইনি মোড় ধৃত সন্দীপ ঘোষ এবং তাঁর প্রভাবশালী চক্রের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *