ধোনির অবসর নিয়ে বিরক্ত সঞ্জয় মঞ্জরেকর, কাঠগড়ায় চেন্নাইয়ের অতিরিক্ত আবেগ

আইপিএল প্রায় শেষের দিকে চলে এলেও মহেন্দ্র সিং ধোনির অবসর কেন্দ্রিক জল্পনা থামার কোনো লক্ষণ নেই। চলতি মরসুমে কাফ মাসলের চোটের কারণে একটি ম্যাচও না খেলা ধোনিকে নিয়ে এই লাগাতার আলোচনা এবার রূপ নিয়েছে চরম বিরক্তিতে। ধোনির খেলা বা অবসর সংক্রান্ত এই অন্তহীন চর্চাকে ‘অহেতুক চর্বিতচর্বণ’ আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রাক্তন তারকা ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার সঞ্জয় মঞ্জরেকর। তাঁর মতে, ধোনিকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে চেন্নাই সুপার কিংস (সিএসকে) ম্যানেজমেন্ট মস্ত বড় ভুল করেছে এবং পুরো বিষয়টি এখন সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে অস্বস্তিকর জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে।
ধোনির ছায়া এবং সিএসকে ম্যানেজমেন্টের ব্যর্থতা
একটি ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মঞ্জরেকর স্পষ্ট জানিয়েছেন, ধোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে করতে তিনি ক্লান্ত এবং এই বিষয়ে তাঁর সমস্ত কৌতূহল হারিয়ে গিয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেটে ধোনির অবদানকে সর্বকালের সেরাদের তালিকায় রাখলেও, বর্তমান ধোনিকে তিনি আগের সোনালী সময়ের ছায়ামাত্র বলে মনে করেন। তাঁর দাবি, সিএসকে কর্তৃপক্ষ পুরো অধ্যায়টি অত্যন্ত দুর্বলভাবে সামলেছে, যার নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি পড়েছে দলের পারফরম্যান্সের ওপর। সাবেক এই ক্রিকেটারের মতে, ধোনি যদি তাঁর সেরা ফর্মে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিতেন, তবে চেন্নাইয়ের ফ্র্যাঞ্চাইজিটি অনায়াসেই এবারের প্লে-অফে জায়গা করে নিতে পারত।
আবেগের চেয়ে বাস্তবতাকে প্রাধান্য দেওয়ার পরামর্শ
চেন্নাই সুপার কিংসের এই বিপর্যয়ের পেছনে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ‘অতিরিক্ত আবেগ’-কে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন মঞ্জরেকর। কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের প্রতি আবেগ থাকা স্বাভাবিক হলেও, দল গঠনের ক্ষেত্রে বাস্তব পরিস্থিতি, মাঠের পারফরম্যান্স এবং পয়েন্ট টেবিলকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল বলে তিনি মনে করেন। ধোনিকে একাদশে রাখার জন্য জোরপূর্বক পরিকল্পনা সাজানোর নীতিকে ভুল আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কেবল শেষ ওভারে নেমে গুটিকয়েক বল খেলে ম্যাচ জেতানো কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না।
ধোনির মতো মহাতারকার নামের আবেগে অন্ধ হয়ে সিএসকে তাদের আসল ক্রিকেটীয় বাস্তবতা থেকে দূরে সরে গিয়েছে। ফলস্বরূপ, মাঠের পারফরম্যান্সে তার খেসারত দিতে হচ্ছে দলটিকে, যা ভবিষ্যৎ আইপিএল মরসুমগুলোতে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির দল গঠনের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।