শান্তিনিকেতন থেকে আমতলার প্রাসাদ, সব সম্পত্তির বৈধতা যাচাইয়ে এবার কড়া নোটিস অভিষেককে

শান্তিনিকেতন থেকে আমতলার প্রাসাদ, সব সম্পত্তির বৈধতা যাচাইয়ে এবার কড়া নোটিস অভিষেককে

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপুল সম্পত্তি এবার সরাসরি প্রশাসনের স্ক্যানারে। তাঁর মালিকানাধীন ও সংশ্লিষ্ট ২১টি সম্পত্তির বিল্ডিং প্ল্যান এবং বৈধতার নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা পুরনিগম (কেএমসি)। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্য জনসভায় অভিষেকের অগাধ সম্পত্তির খতিয়ান তুলে ধরার পরদিনই পুরনিগমের বিল্ডিং বিভাগের পক্ষ থেকে এই তৎপরতা দেখা গেল। কলকাতা পুরসভার আইনের ৪০১ ধারায় এই নোটিস জারি করা হয়েছে, যা রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক আবহে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

নজরে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস ও বহুতল

পুরনিগম সূত্রে জানা গেছে, অভিষেকের কো ম্পা নি ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত সম্পত্তিগুলোর অনুমোদন ও নির্মাণের সঙ্গতি যাচাই করাই এই নোটিসের মূল উদ্দেশ্য। ৯ নম্বর বোরো অফিসের আওতাধীন হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়ি এবং কালীঘাট মোড়ের একটি বহুতলসহ মোট ২১টি ঠিকানায় এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সমস্ত বৈধ কাগজপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ২০০৯ সালে গঠিত এই ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ কো ম্পা নিটি এর আগেও শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে কেন্দ্রীয় এজেন্সির নজরে এসেছিল। ২০১৪ সালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর ডিরেক্টর পদ থেকে ইস্তফা দিলেও তাঁর পরিবার এই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত এবং তিনি নিজে সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

রাজনৈতিক চাপ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই ঘটনার নেপথ্যে তীব্র রাজনৈতিক চাপ কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গত রবিবারই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কলকাতা পুরনিগমের সূত্র উল্লেখ করে অভিষেকের ২৪টি সম্পত্তির তালিকা থাকার দাবি তুলে তোপ দেগেছিলেন। তার ঠিক পরেই পুরসভার এই আইনি পদক্ষেপ বিষয়টিকে আরও গতি দিয়েছে। যদিও কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম দাবি করেছেন যে এই নোটিস জারির বিষয়ে তিনি অন্ধকারে রয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নোটিসের ফলে শাসক ও বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র রূপ নিতে পারে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি এই সম্পত্তিগুলোর বৈধ নকশা ও কাগজপত্র জমা না পড়ে, তবে আইনি জটিলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংক্রান্ত পুরনো বিতর্কগুলো নতুন করে মাথাচাড়া দেবে, যা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *