বাঙালি রাষ্ট্রবাদী ও পরিযায়ী ভোটারদের জোটে ভবানীপুরে বাজিমাত শুভেন্দুর
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/19/suvendu-adhikari-2026-05-19-10-40-08.jpg?w=1280&resize=1280,720&ssl=1)
কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী জয় নিয়ে এক বিস্ফোরক রাজনৈতিক রসায়ন খোলসা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকার গঠনের মাত্র দশ দিনের মাথায় ভবানীপুরের ভোটারদের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, কীভাবে বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষ এবং বাঙালি রাষ্ট্রবাদীদের মেলবন্ধনে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে পদ্ম ফোটানো সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে তাঁর নিজের এলাকাতেই ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়ে এক বড়সড় রাজনৈতিক বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
ফিরহাদের খাসতালুকে থাবা ও জনবিন্যাসের জাদু
ভবানীপুরের সভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের নিজের বুথের নির্বাচনী ফলাফলের খতিয়ান তুলে ধরেন। ফিরহাদ হাকিমকে নিশানা করে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, মেয়রের নিজের ভোটদানের কেন্দ্র চেতলা গার্লস স্কুলের পাঁচটি বুথেই বিজেপি লিড পেয়েছে। তাঁর বক্তব্য, খিদিরপুর এলাকায় তৃণমূল লিড পেলেও চেতলার ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের বাঙালি হিন্দুরা বিজেপিকে বিপুল ভোট দিয়েছেন।
ভবানীপুরের সামগ্রিক জনবিন্যাস কীভাবে এই জয়ে ভূমিকা পালন করেছে, তার পরিসংখ্যান দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০ হাজার গুজরাতি, ১২ হাজার মাড়োয়ারি, ১২ হাজার পূর্বাঞ্চলী, ৪ হাজার শিখ, ৫ হাজার ওড়িয়া এবং তার সঙ্গে বাঙালি রাষ্ট্রবাদীরা একজোট হয়ে ভোট দেওয়ার কারণেই ১৫ হাজার ১০৫ ভোটের এই ব্যবধানে জয় এসেছে। এমনকি বাংলাকে বাঁচাতে ফ্রান্স থেকে এক প্রবাসী ভোটারের লক্ষাধিক টাকা খরচ করে ভোট দিতে আসার নজিরও এদিন তুলে ধরেন তিনি।
প্রশাসনিক সংস্কার ও কড়া বার্তা
রাজনৈতিক বিশ্লেষণের পাশাপাশি রাজ্যের ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক রূপরেখা নিয়েও একাধিক বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের একাধিক সিদ্ধান্তকে বদলে ফেলার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি জানান, বিগত সরকার যে জনগণনা আটকে রেখেছিল, নতুন বিজেপি সরকার তা চালু করে দিয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যে এত দিন থমকে থাকা নতুন কেন্দ্রীয় আইন ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (BNS) কার্যকর করা হয়েছে এবং সীমান্ত সুরক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং ওপার বাংলার উগ্রপন্থী শক্তিকে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, জামাতি বা স্থানীয় বিরোধীদের কোনো রকম চাপ সৃষ্টিতে তিনি ভয় পাওয়ার লোক নন। আগামী ১০ দিনের মধ্যে সমস্ত প্রশাসনিক কাজ গুছিয়ে নিয়ে নির্বাচনী ইস্তাহারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।