রাজ্যে চালু পিএম কিষাণ, টাকা পেতে চাষিদের করতে হবে এই জরুরি কাজ

রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি একে একে পূরণ হতে শুরু করেছে। আয়ুষ্মান ভারত এবং অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মতো একগুচ্ছ জনকল্যাণমুখী স্কিমের পর এবার পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে পুরোদমে চালু হচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘পিএম কিষাণ সম্মান নিধি যোজনা’ (Pradhan Mantri Kisan Samman Nidhi)। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য কৃষকরা বছরে মোট ৬,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পাবেন, যা প্রতি বছর তিনটি নির্দিষ্ট কিস্তিতে সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া হয়। তবে রাজ্যে এই প্রকল্প চালুর আনন্দের আবহেই কৃষকদের জন্য জারি হয়েছে বিশেষ সতর্কবার্তা। বেশ কিছু জরুরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করলে আগামী ২৩তম কিস্তির ২,০০০ টাকা পেতে সমস্যা হতে পারে।
আটকে যেতে পারে ২৩তম কিস্তি
কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্পের ২৩তম কিস্তির টাকা শীঘ্রই কৃষকদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। কিন্তু অনেক সময় সামান্য কিছু ভুলের কারণে কৃষকদের এই অর্থ পেতে দেরি হয় বা টাকা আটকে যায়। সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, এই প্রকল্পের সুবিধা নিরবচ্ছিন্নভাবে পেতে হলে আধার কার্ডের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট লিঙ্ক থাকা এবং ই-কেওয়াইসি (e-KYC) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। আধার সংযোগের ত্রুটি বা তথ্য অমিল থাকলে আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ই-কেওয়াইসি ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট যাচাইয়ের নিয়ম
কৃষকরা অনলাইন এবং অফলাইন উভয় পদ্ধতিতেই ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করতে পারবেন। অনলাইনের ক্ষেত্রে পিএম-কিষাণের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (https://pmkisan.gov.in/) গিয়ে ‘Farmers Corner’ থেকে ‘e-KYC’ বিকল্পটি বেছে নিতে হবে। সেখানে আধার নম্বর এবং রেজিস্ট্রেড মোবাইলে আসা ওটিপি (OTP) দিয়ে সহজেই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা যাবে। আর যাঁরা অনলাইনে করতে পারবেন না, তাঁরা নিকটবর্তী তথ্যমিত্র কেন্দ্রে (CSC Center) গিয়ে বায়োমেট্রিক পদ্ধতির সাহায্যে এই কাজ করতে পারবেন। এর পাশাপাশি, নিজের ব্যাঙ্ক শাখায় গিয়ে আধার লিঙ্ক করানো এবং ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা ডিবিটি (DBT) অপশনটি সক্রিয় রাখা অত্যন্ত জরুরি। নাম, আইএফএসসি (IFSC) কোড এবং অ্যাকাউন্ট নম্বরে কোনও ভুল থাকলে তা দ্রুত সংশোধন করতে হবে।
আবেদনের যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় নথি
এই প্রকল্পে সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে এবং সরকারি ভূমি রাজস্ব দফতরের রেকর্ড অনুযায়ী নিজের নামে চাষযোগ্য জমি থাকতে হবে। তবে কোনও প্রাতিষ্ঠানিক ভাগ-চাষী বা উচ্চ আয়ের ব্যক্তিরা এর আওতাভুক্ত হবেন না। এমনকি অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী যাঁদের পেনশন ১০,০০০ টাকার বেশি, তাঁরাও এই সুবিধা পাবেন না। নতুন আবেদনের জন্য কৃষকের জমির দলিল, আধার কার্ড, ভোটার আইডি, বার্ষিক আয়ের শংসাপত্র, পাসবুকের জেরক্স এবং পাসপোর্ট সাইজ ছবির প্রয়োজন হবে। নতুন আবেদন এবং কিস্তির স্থিতি যাচাইয়ের কাজও অফিশিয়াল পোর্টাল থেকেই করা যাবে।